ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিজয় দিবসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে নুর নাহার (৩২) নামের এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত পালাগানে অভিনয় করায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র মতে, রংধনু পাঠাগারের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে মাসব্যাপী এক পালাগানের আয়োজন করে। পালা গানটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী একাত্তর’র ওপর রচিত। ওই পালাগানের আসরের অন্যতম শিল্পী নুর নাহার। সূত্রটি জানায়, প্রথম থেকে পালাগানের এ কর্মসূচী বন্ধের জন্য শিল্পীদের হুমকি দেয় জামায়াত সমর্থিত কিছু লোক। এ ধরনের হুমকি উপেক্ষা করে রংধনু পাঠাগার তাদের কর্মসূচী অব্যহত রাখে।
নির্যাতনের শিকার নুর নাহারের বাবা উপজেলার গজেরকুটি গ্রামের ভুমিহীণ মুক্তিযোদ্ধা খমির উদ্দিন জানান, বিজয় দিবসের দিনে একই গ্রামের মৃত বাবু মিয়ার পুত্র জামায়াতের সমর্থক মোত্তালিব (৩৮) পালাগানে অভিনয় না করার জন্য নুর নাহারকে হুমকি দেয়। কিন্তু নুর নাহার অভিনয় করার দৃঢ় সংকল্পের কথা জানালে মোত্তালিব অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে নুর নাহারকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন করে। মুক্তিযোদ্ধা খমির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমি মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চাই না। কেবল আমার অসহায় মেয়েটিকে স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার দিন। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা খমির উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কথা হয় নির্যাতনের শিকার নুর নাহারের সাথে। নির্যাতনের শিকার হলেও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক যে কোন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি দূঢ় প্রতিজ্ঞ। রংধনু পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক, পালাগানটির রচয়িতা ও নির্দেশক তৌহিদ-উল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পালাগান বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে ওই চক্রটি। তবে তাদের এ উদ্দেশ্য কখনও সফল হবে না। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ফুলবাড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মজিবর রহমান সিসি নিউজকে জানান, উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কর্মকান্ডের বিরোধিতাকারী কখনও দেশপ্রেমিক হতে পারেনা আর এমন কিছু হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশীদ সিসি নিউজকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মোত্তালিবের দোকানের বকেয়া টাকা নিয়ে নুর নাহারের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়েছে। ওই ঘটনায় নুর নাহারকে থাপ্পড় মারার সত্যতাও পাওয়া গেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, স্বামী পরিত্যাক্তা ৩ সন্তানের জননী নুরনাহার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে থাকে। সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও অন্যের বাড়িতে কামেলার কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাদের সংসার চলতো।