• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন |

উত্তরাঞ্চলে ট্রেন রুটের মাধ্যমে চলছে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা

Trainআফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী : দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেনগুলিতে চোরাকারবারীদের অত্যাচারে যাত্রীরা ভ্রমনে হয়রাণী হচ্ছে। দিন দিন কমছে ট্রেনের আয়। ট্রেন দিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচায় খুব সহজ হয়ে উঠায় চোরাকারবারীদের ব্যবসা চলছে জমজমাট। চোরাচালানীদের নিরাপদ রুট হিসেবে চোরাচালান ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মীরা ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিবে কি, তারা চোরাকারবারীদের কাছে টাকা তোলার জন্য তাদের নিয়োগকৃত অঘোষিত লাইনম্যান দ্বারা চোরাকারবারীদের নিকট থেকে টাকা তুলছে। প্রতি দিন রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা তিতুমীর, বরেন্দ্র, উত্তরা, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত, রুপসা, খুলনা মেইল, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর, দ্রুতযান, তিস্তা, ট্রেনগুলিতে চোরাকারবারীরা পার্বতীপুর-জয়পুর হাট থেকে ছেড়ে আসা হিলি ও বিরামপুরে পৌছা মাত্র ট্রেনের হুজপাইপ খুলে দিয়ে হিলি থেকে কোটি কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী ট্রেনে তোলা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তা ব্যক্তিরা চোরাকারবারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা চোরাকারবারীর ব্যবসায়ীদেরকে পাহারা দিয়ে গন্তব্যস্থানে পৌছে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেমন হিলি থেকে বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, রংপুর, বিরামপুর থেকে জয়পুরহাট সান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বর্দী, হিলি থেকে আন্তঃনগর ও লোকাল এবং মেইল ট্রেনগুলিতে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার নামে টাকা তোলা হচ্ছে। এরা কারা জিজ্ঞাসা  করা হলে তারা বলে চুপ করে থাকেন। এর উত্তর আপনাকে দেওয়া যাবে না।
অভিযোগ উঠছে সীমান্তের ওপার থেকে এক শ্রেণী চোরাকারবারীর গড ফাদাররা এপারে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে ট্রেনে অস্ত্র পাচার করছে। অপরদিকে চোরা পথে আসা ভারতে বিভিন্ন পণ্য ও মাদক নিয়ে যাচ্ছে। ইদানিং ট্রেনে নিরাপত্তা কর্মীরা ২৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ফুলবাড়ী ও জয়পুরহাট বিজিবির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিক্তিতে তথ্য পেয়ে ট্রেনগুলিতে অভিযান চালাতে গেলে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদেরকে তল্লাশী চালাতে বাধা প্রদান করছে।  এতে বিজিবি সদস্যদের মধ্যে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে বিভিন্ন প্রকার বাগ বিতন্ডা হচ্ছে। এমন ঘটনা বার বার ঘটছে। রেলওয়ের কতিপয় নিরাপত্তা কর্মীরা এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন চোরাকারবারীর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ট্রেনের বিভিন্ন ছিট, টয়লেট ও ছাদের স্ক্রু খুলে সেখানে অবৈধ মাল ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখছে। এতে ট্রেনে ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
বর্তমান রেলওয়ে ভ্রমনে যাত্রীরা নিরাপত্তা পাচ্ছে না। কারণ যাত্রীরা নিরাপত্তা কর্মীদেরকে চোরাকারবারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করলে তারা যাত্রীদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখান বলে রেলের যাত্রীরা অভিযোগকরেন। এমনকি রেলওয়ে গার্ড থেকে শুরু করে কেউ কথা বলতে ভয় পান। পার্বতীপুর থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত টিকিট পরিদর্শকরা কোন টিকিট আছে কি না তা যাত্রীদের কাছে ও চোরাকারবারীদের কাছে দেখেন না। ট্রেনগুলিতে এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব হারাবেন অন্যদিকে ট্রেনগুলিতে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে কমে যাবে। ২৯ বিজিবি কে কেন ট্রেন তল্লাশী করতে দেওয়া হবে না এটা কি ধরনের রহস্য? তাহলে কি রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা এই অবৈধ ব্যবসায় সাথে জড়িত নয়? এখনি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দিনের পর দিন তারা এই ভাবে চোরাকারবারী ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িয়ে পড়বে এবং বিজিবি সাথে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে চরম ভাবে  বিসৃংঙ্খলা সৃষ্টি হবে। উভয় নিরাপত্তা কর্মীদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রের স্বার্থে ট্রেনে অবৈধ পণ্য ও অস্ত্র বহন করতে না পারে সে দিকে উভয় নিরাপত্তাকর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্বে থেকে ট্রেনে অভিযান চালানো অব্যাহত রাখতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ