সিসি নিউজ: বর্তমান সরকার কৃষিকে অবহেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এরফলে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলার কৃষক। এবার আমনে কৃষকেরা বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন। কৃষকের গোলায়, চাতাল ও গুদামে লাখ লাখ টন নতুন ধান-চাল রয়েছে। এরপরও সরকারিভাবে ও সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট আমদানিকারকেরা চাল আমদানি করে কৃষকদের পথে বসিয়েছেন।
চাল আমদানির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কৃষিক্ষেত্রে এভাবেই সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপরি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশে ধানের ফলন ভাল হওয়ায় চাল আমদানি বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক দল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, চাল আমদানির কারণে কৃষকেরা এখন ৬৪০ থেকে ৬৬০ টাকায় ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ প্রতি মণ আমন ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় কৃষকের গড়ে লোকসান হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।
ফখরুল দাবি করেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু সরকার চাল আমদানির কথা অস্বীকার করছে। একদিকে উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও রফতানি কথা বলছে, অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারত থেকে চাল আমদানি করছে। সরকার কেন এমনটা করছে, তা জানতে চান তিনি।
সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী ফখরুল বলেন, সরকারের নীতির কারণে ৬০ হাজার পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেছে। মৎস্য খাতেও রপ্তানি আয় কমেছে। বর্তমান সরকার কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কৃষি ঋণে কৃষকদের কাছ থেকে ১৯ শতাংশ সুদ নেওয়ার অভিযোগও করেন ফখরুল।
কৃষকের মাধ্যে ঋণ বিতরণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫% সুদে ট্রাষ্ট ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেবে। ট্রাষ্ট ব্যাংক সজাগ নামের একটি এনজিওর মাধ্যমে কৃষকদের মাধ্যে ১৯% সুদে ঋণ বিতরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থার কোথাও ১৯% সুদে লেনদেনের ঘটনা ইতোপূর্বে জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানি বন্ধ ছাড়াও ১৩ দাবি তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে সভা-সমাবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
দাবিগুলো মধ্যে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ, সরকারিভাবে দ্রুত কৃষকদের কাছ হতে ধান-চাল ক্রয়, ভারতের ভুট্টা আমদানি বন্ধ, রবিশস্য পরিবহনে চাঁদাবাজি ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ, হাটে ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য কমানো, নেরিকা ধানের চাষ বন্ধ, ডিজেলের মূল্য হ্রাস ইত্যাদি অন্যতম।
এসব দাবি আদায়ে ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্মারকলিপি দেবে কৃষক দল। এরপর ২৪-২৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় শহরে আলোচনা সভার পর ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় সভা হবে। এছাড়া ৩০ ডিসেম্বর কৃষক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের অংশ হিসেবে শের-ই- বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, সহ-সভাপতি এমএ তাহের, মো. তমিজউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম প্রমুখ।