• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন |

তিস্তা বুকে এখন সবুজের সমারোহ

Jaldhaka Pic 24হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার  কৈমারী, নেকবক্ত, আনছার হাট, হাতিবান্ধার থানার ৭নং উত্তর ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ধুধু বালু চরে এখন সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ফসল আবাদে। বুধবার সকালে হাতিবান্ধার থানার ৭নং উত্তর ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ধুধু বালু চরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে হাজার একর আবাদি জমি।সেই জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হচ্ছে দেদারসে।সেই আবাদের মাধ্যমে সেখানে এখন সবুজের সমারোহ আর একদিকে বালুর চর  যা এক অভিন্ন মনোরম দৃশ্য।সেখানে হতে পারে পিকনিক স্পট,বিনোদনের অন্যতম স্থান। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত নদীটি ড্রেজিং না করার কারনে পলি জমে রাক্ষুসি ও করস্রোতা তিস্তা নদী এখন শাখা নদী ও নালায় পরিনত হয়েছে।ওই এলাকার জমি জিরাত খুয়ে যাওয়া পরিবারগুলো জেগে ওঠা ওসব জমিতে শুরু করেছে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ।
কৈমারী,নেকবক্ত,আনছার হাট,ডাকালীগঞ্চ,হাতিবান্ধার ডাউয়াবাড়ী এলাকার তিস্তা নদীর ধুধু বালু চরে এখন আলু, মরিচ, পিয়াজ, বেগুন, শরিষা, ভুট্ট্রা, বাদাম, তিল, তিশি, তামাক, গম, ডাল, লাউ, শিম, কুমড়া, ফুলকপি, মুলা, টমেটো, গাজার, ধনিয়া, কাউন, চিন্, বুপশি, শষা, ইরি বোরোসহ বিভিন্ন ফসল।এই চরাঞ্চলের কৃষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে দিন রাত খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করে তিস্তার বুকে ফলাচ্ছেন ফসলের বাম্পার ফলন। ফলে তারা হচ্ছেন  সাবলম্বি।চরাঞ্চলের পরিবারগুলো কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। হাতিবান্ধার থানার ৭নং উত্তর ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর বেড়ীবাধ এলাকার কৃষক আলম(৩৫) এ প্রতিবেদককে জানান, আজ থেকে ২৫ বছর আগে নদী গর্ভে  বসতবাড়ী সহ আদী জমি বিলিন হয়ে যাওয়ায় আমি বেকার হয়েপরি ও আমার পরিবার চালনায় অতি কষ্ট হয়েছিল।নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া জমিগুলো আবার জেগে উঠায় আমি ওই জমিতে বিভিন্ন রকমের ফসল চাষাবাদ করে বর্তমানে সুন্দর ভাবে সংসার চলছে।এভাবে হাজার হাজার পরিবার আজ তিস্তায় জেগে উঠা জমিতে চাষাবাদ করে স্বাভলম্বি হয়ে উঠেছে ও অপরদিকে বেকার হয়ে পড়েছে নৌ শ্রমিক, জেলে সম্প্রদায়।এই বালুর চর  এলাকার কৃষক বেলাল(৫০) জানান,আজ থেকে ২০ বছর আগে এই এলাকার মানুষ অত্যন্ত কষ্ট করে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিল।
এখন তারা জেগে উঠা চরে কষ্ঠ করে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে নিজের দুঃখগুলোকে দুর করার চেষ্টা করছে। এ ্লাকার মানুষ ফসলের নায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার নেকবক্ত ও হাতিবান্ধার থানার ৭নং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর উপর দুটি ব্রীজ না  কারনে।এই ব্রীজ দুটি হলে এ এলাকার রাস্তাঘাট,সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড হতো এবং তাদের জীবন জীবিকা সহ ভাগ্যের পরিবর্তন হতো। এই ব্রীজ দুটি করার দাবী জানান। বালুর চর  এলাকার কৃষক শাহিন (৩০)জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন শুধু কাগজে কলমে। হাতিবান্ধার ডাউয়াবাড়ী তিস্তার চর এলাকায় কোন রাস্তাঘাট না থাকায়  কষ্ঠ করে এ এলাকার মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য উৎপাদিত পন্য নিকটস্থ জলঢাকার নেকবক্ত ও হাতিবান্ধার ডাউয়াবাড়ী বাজারে আনা নেওয়া করে। এক কথায় নিভে যাচ্ছে বিপুল উন্নয়নের সম্ভাবনার স্থান জলঢাকার নেকবক্ত ও হাতিবান্ধার ডাউয়াবাড়ী এলাকায় তিস্তা ও বুড়িতিস্তা নদীর উপর দুটি ব্রীজের অভাবে।
সরকার আসে সরকার যায় কেউ খবর রাখেনা এলাকার। স্থবির হয়ে পরেছে লাখ লাখ মানুষের নদী কেন্দ্রীক জীবন জীবিকা। ঘামায়নি।তাই মাথা ঘামানোর দাবী জানান এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ