• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন |

বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা বিক্রি শুরু, স্বস্তিতে ইটভাটা মালিক

Boropukuria Coal khoniএকরামুল হক বেলাল: দীর্ঘ সাত মাস পর পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে পুনরায় কয়লা বিক্রি শুরু হয়েছে। গত বুধবার প্রথম পর্যায়ে ৫৯৪টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার থেকে তাদের মাঝে কয়লা সরবরাহ শুরু করা হবে। কয়লা বিক্রি শুরু হওয়ায় ইটভাটা ও বয়লার চালিত শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা বিক্রির জন্য গত ১৬ ডিসেম্বর কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়লা ব্যবহারকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্টানগুলোর নিকট থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে দরখাস্ত আহবান করে। এ সময়ের মধ্যে কয়লা ক্রয় করার জন্য ৪ হাজার ৮০০টি প্রতিষ্ঠান ১০০ টন থেকে ৫ হাজার টন পর্যন্ত চাহিদা উল্লেখ করে আবেদনপত্র জমা দেয়। এতে কয়লার চাহিদা দাড়ায় প্রায় ৭ লাখ টন। এদিকে খনি কর্তৃপক্ষের নিকট বিক্রিযোগ্য কয়লার মজুদ মাত্র ৬০ হাজার টন থাকায় কয়লা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার তদবির শুরু হয়। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সকল প্রকার তদবির উপেক্ষা করে বিক্রয়যোগ্য কয়লার মজুদ অনুযায়ী গত বুধবার পার্বতীপুর,ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর জেলার ইটভাটাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সারাদেশের ৫৯৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে ১০০ টন হিসেবে ৫৯ হাজার ৪০০ টন কয়লা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে ওইদিনই ৩৫টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে বরাদ্দের বিপরীতে টাকা জমা দিয়েছে। আগামী রোববার থেকে তাদের মাঝে কয়লা সরবরাহ শুরু করা হবে বলে খনি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান জানান- খনি ইয়ার্ডে বর্তমানে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে পাশর্^বর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৬৫ হাজার টন মজুদ রেখে প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার টন কয়লা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিপুল পরিমান কয়লার চাহিদা থাকায় পার্বতীপুর,ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর জেলার ইটভাটাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং আগে আসলে আগে পাবেন এই নীতিতে সারাদেশের ৫৯৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটিকে ১০০ টন করে কয়লা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খনিতে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টন কয়লা। ১০/১২ দিন পর আবারও কয়লা বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে কয়লা বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১০মে খনি ভূ-গর্ভে ১২০৫ নম্বর কোলফেজে অস্বাভাবিক পানি প্রবাহের ফলে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পাশর্^বর্তী বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখতে জ¦ালানি সংকট এড়াতে জুন মাস থেকে খোলাবাজারে কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেয় খনি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ১২১২ নম্বর কোলফেজ উন্নয়ন করে গত ১৫ নভেম্বর পরীক্ষামুলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয় এবং ৩০ নভেম্বর থেকে খনি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ