সিসি ডেস্ক: দেশ কিংবা বিদেশ। যে যেখানেই অবস্থান করছেন। দেড় বছর পর ফের দৃষ্টি সবার শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে। ২০ দলের একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে অস্থিরতা। সর্বত্রই বলাবলি হচ্ছে, বুধবারই গাজীপুরের মহড়া হয়েছে বকশীবাজারে।
দেড় বছর আগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশবাসী তাকিয়ে ছিল গাজীপুরের দিকে। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও গত বছরের ৬ জুলাই ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হয় বিএনপি। এবার ২৭ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সবার চোখ গাজীপুরে নিবিষ্ট। তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে ‘পাকবন্ধু’ বলার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ। তারা ঘোষণা দেন ‘মাফ’ না চাইলে খালেদা জিয়াকে গাজীপুরে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। জবাবে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল সেই হুমকিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ‘যে কোনো মূল্যে’ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। ছাত্রদলের এই চ্যালেজ গ্রহণের পর ছাত্রলীগ গাজীপুরের একই স্থানে সমাবেশ করার কৌশল নেয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা বিএনপি ও ছাত্রলীগের একই স্থানে সমাবেশের ঘোষণার পর সরকার আইনের সুবিধা গ্রহণ করে ‘সব ধরনের সমাবেশ’ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু বিএনপি সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জোর কদমে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মতোই বিএনপি সমাবেশ করে দেশবাসীকে নিজেদের শক্তি জানান দিতে বদ্ধপরিকর। মিডিয়ায় কয়েকদিন থেকে চলছে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা। গাজীপুরের টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ঢাকা সমাবেশ করতে না পারলেও নারায়ণগঞ্জে সফল সমাবেশের পর গাজীপুরে সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি নতুন বছরে রাজপথে নামার বার্তা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রলীগ সমাবেশ করতে দেবে না বলে হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছে। ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, তাদের সমাবেশ হবেই। প্রস্তুতি সম্পন্ন। অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলে দায় বিএনপি ও ছাত্রদলের। গত মঙ্গলবার থেকে খালেদা জিয়ার জনসভাস্থল ছাত্রলীগ দখল করে রেখেছে। পুলিশের সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে দফায় দফায় মহড়া দেয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানেরও পাল্টা ঘোষণা, নির্ধারিত স্থান ও সময়ে সমাবেশ হবেই। এতে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলে দায় সরকার, ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের। সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, সকল বিধিবিধান মেনেই সমাবেশ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ‘ছোট্ট বাচ্চা ছেলে’-রা ভুল করলেও তাদের মুরুব্বি আওয়ামী লীগ নেতারা হয়তো ভুল করবে না। সহাবস্থান অব্যাহত রাখবেন, কিন্তু যদি ভুল করে দায়-দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে। গাজীপুরে সমাবেশ হবে। এ অবস্থায় সবার দৃষ্টি ঢাকার অদূরে গাজীপুরের দিকেই। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নূূরুল আমিন বেপারী ও বদরুদ্দীন ওমর বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া উচিত। ছাত্রলীগের যদি সমাবেশের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা পরদিন করতে পারে। একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ দিয়ে একটি অনিবার্য সংঘাত ডেকে আনা রাজনীতির জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। তারা মনে করেন, সরকার আইনের সুবিধা গ্রহণ করে ‘সব ধরনের সমাবেশ’ বন্ধ করতে পারে অর্থাৎ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। তবে এখানে ভুল করলে তার মাশুল দিতেই হবে।
গাজীপুর মহানগরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভা। দিন আগেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জনসভাকে ঘিরে গাজীপুরের আশপাশের জেলা টাঙ্গাইল, জামালপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, ঢাকাসহ নিকট জেলাগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি ও গণসংযোগ। জেলার সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তোরণ, ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে। জনসভার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বিএনপিকে লিখিত অনুমোদন প্রদান করেছেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের অনুমোতি মেলেনি। একই মাঠে পাল্টা সমাবেশ বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি ছাত্র লীগের। গত ২১ ডিসেম্বর তারা সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। স্থানীয় ছাত্রলীগের ঘোষণায় রসদ জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর গাজীপুর সফরের পর তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরো তেজদীপ্ত। নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং প্রশাসনও। ওদিকে গত বুধবার রাতেই গাজীপুরের নেতাদের সাথে বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপারসনও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ওইদিন (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় জনসভাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। এই পরিস্থিতিতে গাজীপুরের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সমাবেশের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে আগেই অনুমতি নিয়েছি। বৈধভাবে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবো। এখানে সরকারের একটি সহযোগী সংগঠন অগণতান্ত্রিকভাবে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে শিষ্টাচারের রাজনীতি করে আসছে। এখন যদি বাচ্চারা ভুল করে মুরব্বিদের উচিত তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। না হয় প্রশাসনকে এর দায়ভার নিতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে শপথ নিয়ে যদি একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা অবনতির জন্য আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে যাব। আমরা কারো পৈতৃক ভিটায় বাস করি না। অন্য অধিকার না থাকলেও জনসভার এ অধিকার আমরা যে কোনো মূল্যে প্রতিষ্ঠা করব। গাজীপুরে যেতে বাধা দিলে সারাদেশে সমাবেশ করা হবে। গাজীপুরে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সমাবেশ করা হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক মান্নান বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো গাজীপুরেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছি। ছাত্রলীগের অগণতান্ত্রিক ও বিশৃঙ্খল আচরণ গাজীপুর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতি এখন থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হবে
সমাবেশ নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহাসান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা নির্দিষ্ট স্থানে এবং নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সর্বাত্ম প্রস্তুতি ছাত্রদলের আছে। তিনি বলেন, প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সেখানে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এর কারণে গাজীপুরে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকার, ছাত্রলীগ ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান গতকালও বলেছেন, ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে ছাত্রলীগ সমাবেশ করবে। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ হলে তার দায়ভার বিএনপিকেই নিতে হবে।
গাজীপুরের পরিস্থিতির সার্বিক বিশ্লেষণ করে বদরুদ্দীন ওমর বলেছেন, যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল তখনই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। প্রতিপক্ষকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি। বিএনপিও করেছে। এখন আওয়ামী লীগ আরো বেশি ও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি সভা করবে তাতে বাধা দেয়ার কি আছে। এটি গণতন্ত্রের বরখেলাপ। এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে। বড় দলগুলোকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নূূরুল আমিন বেপারী বলেন, এখনো গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান। সরকারের উচিত হবে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া। ছাত্রলীগ তো ক্ষমাতসীনদেরই একটি সহযোগী সংগঠন। কিন্তু সরকার যদি বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে দেয় তাহলে সেটা তাদের জন্য বড় ভুল হবে। এর জন্য মাশুল দিতে হবে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগকেই বেশি নিতে হবে।
ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, সকল দল ও সরকারের উচিত হবে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়া। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। আমি মনে করি বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া উচিত এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। ছাত্রলীগের যদি সমাবেশের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা পরদিন করতে পারে। একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ দিয়ে একটি অনিবার্য সংঘাত ডেকে আনা আমাদের রাজনীতির জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, সামনে ৫ জানুয়ারি। সকল দলের কাছেই আহ্বান থাকবে এইদিনটিকে ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
পুলিশি বেষ্টনীতে সশস্ত্র মহড়া-দিনভর উত্তেজনা
রোববার ঘোষণা দেয়ার পর গত মঙ্গলবার থেকে খালেদা জিয়ার জনসভাস্থল ছাত্রলীগ দখল করে রেখেছে। গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তারেক রহমানের করা কটূক্তি প্রত্যাহার অথবা তাকে দল থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গাজীপুরের মাটিতে কোনোভাবেই আসতে দেয়া হবে না। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপ জানান, যে কোনো মূল্যে খালেদা জিয়ার গাজীপুরে আগমনকে প্রতিহত করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবারও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভাস্থল ভাওয়াল কলেজ মাঠে ঢুকতেই পারেনি। সকালে মাঠের ভেতরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। মাঠের পূর্ব পাশে যেখানটি খালেদা জিয়ার জনসভার জন্য মঞ্চ তৈরির কথা ছিল সে স্থানটিতে ছাত্রলীগের তৈরি করা একটি ছামিয়ানার কাছে বসে পুলিশ তা পাহারা দিচ্ছে। বেলা ১২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হীরা সরকার, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা রকিব সরকার ও ভাওয়াল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফাইজুর রহমান ও ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি মিছিল ভাওয়াল কলেজ মাঠে প্রবেশ করে। তারা পুলিশের সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েক দফা মহড়া দেয়। পরে কলেজের প্রধান ফটকের কাছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সারাদিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ জনসভা মাঠে অবস্থান করে। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠের আশপাশে দেখা যায়নি। তবে মাঠের অদূরে চান্দনা চৌরাস্তার আশপাশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী সতর্ক অবস্থানে ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা না থাকায় তারা মাঠের দিকে অগ্রসর হননি। বিকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় মিছিল করে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, যুবদল নেতা বশির আহমেদ বাচ্চু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সরাফত হোসেন, সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
সকাল থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নান, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, হুমায়ূন কবীর, পীরজাদা রুহুল আমিন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, সদর উপজেলা পরিদের চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর চান্দনা চৌরাস্তার আশপাশে অবস্থান নেন।
বিকালে সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সুষ্ঠুভাবে জনসভা সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা চান। জেলা প্রশাসক নেতৃবৃন্দকে জানান, জনসভার জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো পুলিশি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি। জবাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, জনসভার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বিএনপিকে লিখিত অনুমোদন প্রদান করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের সহযেগিতা কামনা করছি।
বিএনপির অভিযোগ, বিএনপির পক্ষে মাঠ ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও পুলিশ জনসভার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল মাঠে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সেখানে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আর পুলিশ তা বসে বসে পাহারা দিচ্ছে। তারা পুলিশের এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, জনসভার জন্য বিএনপিকে ভাওয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও এর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এর পরে আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠন একই স্থানে একই সময়ে একটি সমাবেশ ডাকে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। ওই দিন যে কোনো মূল্যে ওই মাঠে খালেদা জিয়ার জনসভা অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, আমরা কোনো সহিংসতায় বিশ্বাস করি না। আমরা যে কোনো সময় জনসভা মাঠে প্রবেশ করতে পারি। আমরা চাই না কারো সঙ্গে সহিংসতায় জড়াতে। তিনি অভিযোগ করেন, ভাওয়াল কলেজ ময়দান আমাদের নামে লিখিত অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগ অবৈধভাবে সে মাঠটি দখল করে রাখে। আর পুলিশ প্রশাসন তাদের অবৈধ কাজটিকে পাহারা দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ পিপিএম জানান, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা দু’পক্ষেরই আবেদন পেয়েছি। কাউকেই আমরা অনুমতি দেইনি। তবে পুলিশের অনুমতি ছাড়া যদি কেউ কোনো ধরনের সভা করার চেষ্টা করে তবে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।