স্বাস্থ্য ডেস্ক : ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে নামে একটি গবেষণা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধূমপানের মধ্যেই রয়েছে ক্যান্সারের সর্বোচ্চ ঝুঁকি। এর পরেই রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাবার।
শুক্রবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলা হয়, ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি।
নতুন বছরে সবাইকে স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই জীবনযাপনের ধরন বদলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।
তাদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যে তিন লাখের বেশি নাগরিকের ক্যান্সারের পেছনে ভূমিকার রেখেছে ধূমপান।
এছাড়া এক লাখ ৪৫ হাজার নাগরিকের ক্যান্সারের পেছনে মাত্রাতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ অস্বাস্থ্যকর খাবারের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
ক্যান্সারের ৮৮ হাজার ঘটনায় স্থূলতাকে এবং ৬২ হাজার ২০০ ঘটনায় অ্যালকোহল গ্রহণকে ক্যান্সারের ঝুঁকি হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সূর্যরশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি থেকে এবং কায়িক শ্রম না করাতেও ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে বলে গবেষণায় পেয়েছেন গবেষকরা।
লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক যুক্তরাজ্য ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপাত্ত বিশ্লষক অধ্যাপক ম্যাক্স পারকিন বলেন, “বিশ্বব্যাপী গবেষণায়ও ক্যান্সারের ঝুঁকির পেছনে একই ধরনের কারণ সনাক্ত হওয়ায় মোটামুটি সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ বেছে নিয়ে ক্যান্সারে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কমানো যায়।
“ক্রিসমাসের ছুটিতে সবাই খাদ্য ও পানীয়তে একটু বেশিই খরচ করেন। তাই আমরা চাই না মাংস ও ওয়াইন নিষিদ্ধ হোক। কিন্তু ২০১৫ সালের জন্য স্বাস্থ্যকর কিছু খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তা করার এটাই সুবর্ণ সময়।
“স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে ক্যান্সার না হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।”
যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগও বলছে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।