মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৯০.১০ শতাংশ। ৩০ ডিসেম্বর রোববার বেলা ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ তোফাজ্জুর রহমান তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষনা করেন। তবে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার কিছুটা বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ১২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮১০ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৯৫ হাজার ৭৮৮ জন ও ছাত্রী ৯৯ হাজার ৩৩৯ জন। গড় পাশের হার ৯০ দশমিক ১০ শতাংশ। ছাত্রদের পাশের হার ৮৯.৭২ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৯০.৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৪২০ জন। ফলাফলে এবারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮২৯টি এবং কেউই পাশ করেনি এমন (শূন্য ফলাফল প্রাপ্ত) বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮। এবারে মোট কেন্দ্র সংখ্যা ২৩৯টি ও অংশগ্রহনকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩০১৮টি।
ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ তোফাজ্জুর রহমান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল কিছুটা ভাল হয়েছে। এবার পাশের হার সামান্য বেড়েছে ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সামান্য কমেছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৮৩৬ জন এবং এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৪২০ জন। জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, গণিতে প্রথম বারের মত সৃজনশীল প্রশ্ন হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা কিছুটা সমস্যায় পড়ে। তবে আগামী এই সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে উত্তীর্ন হয় ৭৫ হাজার ৬০১ জন এবং পাশের হার ছিল ৬২.১৮ ভাগ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৬৩ জন। ২০১১ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৩ জন উত্তীর্ন হয়। পাশের হার ছিল ৮৪.৩৫ ভাগ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬৪৫ জন। ২০১২ সালে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৫ জন। পাশের হার ছিল ৮৪.৮৮ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৫৩৪ জন। আর ২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৩ জন। গড় পাশের হার ৮৮.৯১ ভাগ।
২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে গড় পাশের হার সামান্য বেড়েছে। অপর দিকে ২০১০ সালে শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৪৭টি, ২০১১ সালে ২৪২টি, ২০১২ সালে ৪৭৬টি, ২০১৩ সালে ৫০৫টি ও ২০১৪ ৮২৯ টি বিদ্যালয়।
ফলাফল প্রকাশের সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোঃ আব্দুল মজিদ, উপ-সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, কলেজ পরিদর্শক মোঃ ফরাজ উদ্দীন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খ ম রফিকুল ইসলাম, মোঃ আরিফুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ডর অধীনে পঞ্চমবারের মত জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অপরদিকে, দিনাজপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) ও ইবতেদায়া শিক্ষা সমাপনী-২০১৪ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলে পিএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে গড় পাশের হার ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলায় ৫৭ হাজার ৬৭ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬ হাজার ৩৮৪ জন। গড় পাশের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৮শ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে বালক ৩ হাজার ২৩৬ জন ও বালিকা ৩ হাজার ৫৬৪। পিএসসির ফলাফলে বালকদের তুলনায় বালিকারা বেশ এগিয়ে রয়েছে।
এদিকে মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলায় ৪ হাজার ২৬৫ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহন করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ১৮৩ জন। গড় পাশের হার ৯৭.৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়ে ১১১ জন। এর মধ্যে বালক ৬৫ জন ও বালিকা ৪৬ জন। তবে ফলাফলে ইবতেদায়ী পরীক্ষায় বালকরা এগিয়ে রয়েছে।
জেলায় পিএসসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় মোট ৬১ হাজার ৩৩২ জন ছাত্রছাত্রী অংশগহ্রন করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬০ হাজার ৫৬৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৯১১ জন। পিএসপিতে অকৃকার্য হয়েছে ৬৮৩ জন ও ইবতেদায়ীতে অকৃকার্য হয়েছে মাত্র ৮২ জন ছাত্রছাত্রী।