• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন |

রংপুরে পুলিশি বেরিকেড ভেঙে ২০ দলের বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৯

Bikovরংপুর: গণতন্ত্র হত্যা দিবসে সোমবার রংপুর মহানগরীতে পুলিশি বেরিকেড লাথি দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে ২০ দলীয় জোট।
এ সময় জোট নেতাকর্মীরা কয়েকটি ইটপাটকেল ছোড়ে। চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াত পৃথকভাবে কালো পতাকার মিছিল বের করে নগরীতে

সকাল থেকেই রংপুর মহানগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এবং পেছনে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বিপুল পরিমাণ পুলিশ পুরো এলাকা কর্ডন করে রাখে। এরই মধ্যে ভিন্ন ভিন্নভাবে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে থাকে। দুপুর পৌনে ১২টায় মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের ভেতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ রোড ব্র্যাকার দিয়ে কার্যালযের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে দেয়।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বেরিকেডে লাথি মেরে সরিয়ে দিয়ে পুলিশকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করার জন্য সহযোগিতার আহবান জানায়।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত নেতাদের বিতর্ক শুরু হয়। এরই মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামুর নেতৃত্বে একটি কালো পতাকার মিছিল কার্যালয়ের সামনে আসলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে নেতাকর্মীরা কিছু ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কার্যালয় থেকেও বেরিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে আরেকটি মিছিল সেনপাড়া মোড় থেকে এসে যোগ দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে প্রেস ক্লাব, সেনপাড়া মোড়, শাপলা পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হওয়ায় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট তর্ক-বিতর্ক হওয়ার পর পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয়। তবে তার আগেই পুলিশ সালেক পাম্পের সামনে ব্র্যাকার দিয়ে রোড বেরিকেড দেয়।
এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ১০০ গজ দূরে সালেক পাম্পের সামনে গিয়ে আবার দলীয় কার্যালয়ে এসে সমাবেশ করে। মহানগর বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় সেখানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, মহানগর সেক্রেটারি সামসুজ্জামান সামু, জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, জাগপা সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “রাজপথে নেতাকর্মীরা পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুলির মুখে রক্ত দিবে তবুও তারা আন্দোলন থেকে পিছপা হবে না। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জানমালের নিরাপত্তার রক্ষার জন্য বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। তল্লাশি, হয়রানি, হামলা, মামলা দিয়ে তাদের দমানো যাবে না।”

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে নয়জন বিএনপি ও জামায়াত শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, “দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করলেও তা দমন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার স্বার্থে পুলিশ যা করার দরকার তাই করেছে ও করবে।”
ইসলামী ছাত্রশিবির: এদিকে সকালে রংপুর মহানগরীর কামারপাড়া কোচ স্ট্যান্ডে মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির কালো পতাকার বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর সভাপতি আল আমিন হাসান, সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ প্রমুখ।এদিকে জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কালো পতাকার বিক্ষোভ করা হয়েছে।
জামায়াত: মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্নস্থানে এবং জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক পৃথক মিছিল করে নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে দুপুরে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো নগরী এবং বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ