• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন |

আন্দোলনে ফিরেছে জামায়াত

Jamat-2015সিসি ডেস্ক: আন্দোলনে ফিরেছে জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোণঠাসা দলটি বিপদ এড়াতে অবরোধের প্রথম কয়েক দিন গা বাঁচিয়ে চললেও ১২ জানুয়ারি থেকে সর্বাত্মকভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। এ কারণে জামায়াত প্রভাবিত এলাকাগুলোতে সহিংসতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেও জামায়াত কঠোর আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে যতদিন সম্ভব অবরোধ চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে এখন জামায়াত। দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও বতর্মান জামায়াত নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। যেভাবে অবরোধ চলছে সেভাবেই চলবে। যা হওয়ার হবে। সুযোগ নেই।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াতকে সরকার নির্যাতন চালিয়ে আন্দোলনে ঠেলে দিয়েছে।

২০ দলীয় জোটের বৈঠকে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য  জানান, ‘সরকার ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। কিন্তু বিরতি দেওয়ারও সুযোগ নেই। বিএনপিকে জামায়াত এই পরামর্শই দিয়েছে।’ গত ৭ ডিসেম্বর ২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে জামায়াতের প্রস্তাব ছিল প্রস্তুত হয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জোটের ব্যানারে আন্দোলনে নামা। যে আন্দোলন হবে স্বল্প সময়ের, কিন্তু কঠোর ও কার্যকর। ২৬ ডিসেম্বর জামায়াতের তরফ থেকে বিএনপিকে একই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অবরোধে সক্রিয় হলে আবার দলের নেতাকর্মীরা একই অবস্থায় পড়তে পারেন- এই আশঙ্কায় অবরোধের প্রথম দিনগুলোতে নিষ্ক্রিয় ছিল। ১৩ জানুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর পর বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন দলটির নেতা ও নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ‘আটকের’ পর জামায়াতের দুই নেতা ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন। জামায়াতের হিসাবে গত ৯ দিনে সিলেট মহানগর ও পাবনা জেলা আমিরসহ প্রায় এক হাজার ৬০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, সরকারের এমন কঠোর মনোভাবই জামায়াতকে আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। মাহমুদুল হাসান বলেন, আন্দোলন করলেও গ্রেফতার হতে হয়। ক্রসফায়ারে পড়তে হয়। না করলেও একই অবস্থায় পড়তে হয়। তার চেয়ে আন্দোলন করেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ভালো।

জামায়াত অবরোধে সক্রিয় হওয়ার পর জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে সহিংসতা বেড়ে গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট শহর, জকিগঞ্জ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সহিংসতা তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। তবে ঢাকায় এখনও নামতে পারছে না।

উৎসঃ   সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ