বিনোদন ডেস্ক: মুন্নী সাহা ইলেকট্রনিক তথা টেলিভিশন মিডিয়ার প্রথম সারির সাংবাদিক। চৌকস ও নির্ভীক সাংবাদিকতা তাকে দিয়েছে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা। গুণী এই সাংবাদিকের জন্ম মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানায়। এ ভি জে এম সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি সমাপ্ত করেন। এরপর ইডেন কলেজ থেকে এইচএসসি ও গ্র্যাজুয়েশন করেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। তার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। এরপর মাস্টার্সে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে।
তারা সাত ভাই এবং চার বোন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসেন। ভালোবাসেন বই পড়তে এবং হারানো দিনের গান শুনতে। খেতে ভালোবাসেন ভাত আর ইলিশ মাছ। পড়াশোনা চলাকালীন অবস্থায় তিনি আজকের কাগজে কাজ শুরু করেন। ১১ মাস কাজ করার পর যোগ দেন দৈনিক ভোরের কাগজে। সেখানে তিনি নানা ফিচার পাতায় কাজ করেছেন এমনকি ওইসব পাতার সম্পাদনাও করেছেন। ১৯৯৪ সালে ভোরের কাগজেই রিপোর্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৯ সালে একুশে টিভিতে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মিশুক মুনিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন অনেক দিন। তাই টেলিভিশন সাংবাদিকতা করতে এসে তেমন সমস্যা হয়নি তার। এরপর ২০০৩ সালে যোগ দেন এটিএন বাংলায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে। এখন তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান।
এই সফল মানুষটির শৈশব ভীষণ রঙিন। স্কুলে রচনা লিখতে গিয়ে ডাক্তার হতে চাওয়ার ইচ্ছা লিখলেও সত্যি বলতে মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছেন সবসময়। ব্যস্ততায় ডুবে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। জীবনটাকে সহজভাবে উপভোগ করতে চান। এ ছাড়া সকালটা শুরু হয় আলসেমিতে। তারপর ব্যস্ততা। কাজের ফাঁকে ফুরসত মিললে ভালো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কাটে সময়। ফ্যাশনটাকে ব্যক্তিত্ব-নির্ভর দেখেন তিনি। সে অর্থে ফ্যাশন শব্দটি তার কাছে আপেক্ষিক। পোশাকে অনেকটা ভবঘুরের মনোভাবের, তবে জীবনধারা বিবেচনায় ফ্যাশনকে মূল্যায়ন করেন শালীনতা-প্রধান হিসেবে। ব্যক্তিত্ব তুলে ধরায় কাজ ও বিশ্বাসের সচেতন প্রকাশ ভঙ্গিটাই তার কাছে ফ্যাশন। অল্পতেই খুশি থাকার আনন্দ পেতে ভালোবাসেন। এককথায় বলতে গেলে ‘আমারও পরান যাহা চায়, আমি তাই, তাই-ই গো!’ তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব তার মা। বাংলাদেশি সংস্কৃতি-নির্ভর মানুষটির প্রিয় খাবার মাছ ও ভাত। সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটে কর্মস্থল এটিএন নিউজের নিউজরুমে। রান্নার কথা উঠলে বলবেন, নিজে তেমন কিছু রাঁধতে পারেন না। তাই বলে রান্না ঘর থেকে দূরে থাকা নয়। প্রায়ই রান্না ঘরে গিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেন। সে হিসেবে তার প্রিয় একটি রেসেপি তুলে ধরা যেতে পারে। লেবুর চা। এটা হয়তো তার ট্রেড মার্ক হয়ে গেল কারণ তার অফিসের সহকর্মীরাও তার কাছে থেকে লেবু চা বানানো শিখে নিয়েছে। নিজে খুব একটা সাজগোজ না করলেও যারা সুন্দর সাজে, সুন্দর হয়ে থাকে তাদের ভালোলাগে তার। সত্যি বলতে, নিউজের মানুষের বোধহয় অতিরিক্ত সাজগোজ সাধারণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। সেটাই হয়েছে হয়তো। স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন পোশাকই তার ভালোলাগে। তাই যখন যেটা পরেন সেটাই তার প্রিয় হয়ে ওঠে। পরিবেশ বুঝে নিজেকে উপস্থাপন করতে ভালোবাসেন তিনি। সাফল্যের দেখা পাওয়া এই মানুষটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সফলতার জন্য তরুণদের একটি পরামর্শ দিতে। বললেন, আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি? নাহ্… চলুন আমরা তরুণ থাকার ব্রত রাখি, মনেপ্রাণে!