স্বাস্থ্য ডেস্ক: টেনশন হলেই শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে, সেখান থেকে ‘অ্যাড্রিনালিন’ নামে বিশেষ এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়। এছাড়াও টেনশন বা অ্যাংজাইটির ফলে শরীরের কোষ থেকে হিস্টামিন, সেরাটোনিন ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসৃত হয়। এই জৈব-রাসায়নিকগুলোর অধিকাংশই প্রোটিনজাতীয়, এগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে অ্যামিনো অ্যাসিড শৃঙ্খল খুঁজে পাওয়া যায়।
সুতরাং, টেনশন মানসিক অবস্থা হলেও শরীরকে কতগুলো রাসায়নিক ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলস্বরূপ হতে পারে বুক ধড়ফড় করা, ঘাম হওয়া, খিদে কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, ঘুম কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, গায়ে র্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে, হাত-পা কাঁপা। টেনশন থেকে হতে পারে আরো অনেক কিছু। যেমন –
১.টেনশনে ভুগলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই উচ্চ রক্তচাপ চোখের রেটিনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর নাম হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি।
২.টেনশনের ফলে রক্তচাপ বাড়তে থাকে। ক্রমাগত উচ্চ রক্তচাপের শিকার হলে হার্টের রোগ, সেরিব্রাল স্ট্রোক হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
৩.বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে টেনশন ডায়াবেটিসকে প্রকটিত করে। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে ‘আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহেনস’ নামে কোষের সমষ্টি শরীরে গ্লুকোজ বিপাকে সাহায্য করে। সুতরাং টেনশন থেকে ডায়াবেটিস হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
৪.রেনিন অ্যানজিওটেনসিন অ্যাক্সিস বলে ডাক্তারি পরিভাষায় একটি শব্দ আছে। কিডনির রক্তবাহে উচ্চ রক্তচাপ থাকে কিডনি থেকে এই রেনিন নামক রাসায়নিক পদার্থটি নিঃসৃত হয়। এভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৫.আজকাল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম নামে একটি রোগ অহরহ দেখা যায়। এই রোগে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া সব একত্রে রোগীকে বিপর্যস্ত করে। টেনশনের ফলেই এই রোগ সৃষ্টি হয়।