সিসি ডেস্ক: চলমান অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে রাজনীতির মাঠে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও ছাত্রশিবির। যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রমের ফলে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলাম ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। সামাজিক চাপ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে একেবারেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাড়ানর চেষ্টা করছে তারা। নতুনদিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ঘুরে দাড়ানর কাজে এরই মধ্যে কিছু সফলতাও অর্জন করতে পেরেছে দলটি।
বর্তমান আন্দোলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে শুরুর দিকে কিছু অনীহা ছিল। দলটির তৃণমূল কর্মীরা মনে করছিল, বর্তমান সংকটে যে পক্ষই জয়ী হউক তাতে জামায়াতের কোন লাভ নাই। কেননা, শেষ পর্যন্ত কোন দলই জামায়াতের পক্ষে কাজ করে না। বিশেষ করে, জামায়াত কর্মীদের মধ্যে বিএনপির ওপরও বেশ অনাস্থা তৈরী হয়েছিল। কেননা, শুরুর দিকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নানান সমালোচনা করলেও বিএনপি ধীরে ধীরে ওই পথ থেকে সরে আসতে শুরু করেছিল। এবং শেষের দিকে বিএনপি কোনভাবেই যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছিল না। একারণে বিএনপির কোন আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অনীহা ছিল তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে।
কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলতেই থাকায় পরিবর্তন চলে আসে জামায়াত কর্মীদের মন-মানসিকতায়। তারা শেষ পর্যন্ত, নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করে। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা নাশকতায় জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে নাশকতা চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে ধরা পড়া থেকে শুরু করে গ্রেফতার হয়েছেন জামায়াতের কর্মীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলমান অবরোধ কর্মসূচীতে জামায়াত ও বিএনপির এজেন্ডা ও কৌশল দুটোই ভিন্ন ভিন্ন। বিএনপি চাইছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন। কিন্তু জামায়াত চাইছে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করা এবং বর্তমান সরকারের পতন। জামায়াত কর্মীরা মনে করে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে দলটি অদূর ভবিষ্যৎয়ে একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বিএনপির অধিকাংশ কর্মীদের মধ্যেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবরোধ ও হরতাল চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের কৌশল একেবারেই চরমপন্থী। জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বড় বড় নাশকতার পরিকল্পনা এবং ধর্মীয় উসকানী দেওয়ার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার উসকানীগুলো মূলতঃ আসছে জামায়াতের কর্মীদের পক্ষ থেকেই। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সদস্যদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্যও উসকে দিচ্ছে দলটির কর্মী-সমর্থকরা।