রুকুনুজ্জামান বাবুল,পার্বতীপুর: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার উপজেলা ভূমি অফিসসহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহশিল অফিস) গুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। রেকর্ড সংরক্ষণ ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এই অফিস গুলোর অধিকাংশরই নিজস্ব ভবন নেই, ইউনিয়ন পরিষদ বা পরিত্যক্ত বাড়ির ভাঙ্গা জারাজীর্ণ রুমে কোন রকমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে আপামর জনগণের সাথে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসগুলো। অধিকাংশ অফিস
দেখে মনে হয় এগুলো দেখার জন্য যেন কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার ভূমি অফিসের সাবেক পুরাতন কোর্ট বিল্ডিংযের ৩টি রুম নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিস চলছে, পেছনের ভাঙ্গা পরিত্যক্ত ঝুকিপুর্ণ রুমে জনগণের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ রেকর্ড রাখা হয়েছে। উপজেলার ১১টি তহশিল অফিসের ৮টি তহশিল অফিসের নিজস্ব অফিস নেই। ইউনিয়ন পরিষদ বা পরিত্যক্ত বাড়ির ভাঙ্গা জরাজীর্ণ রুমে অফিসের কাজ চলছে। খতিয়ানসহ গুরুত্বপুর্ণ রেজিস্টার ও দলিলপত্র রাখার কোন স-ব্যবস্থা নেই। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর সরকারীও অন্যন্য সব বিভাগের উপজেলা পর্যায়ে নতুন নতুন ভবন হলেও সরকারী ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ এই সেক্টরের অবকাঠামোগত তেমন কোন উন্নতি দেখা যায়না, যার সরাসরি খারাপ প্রভাব পড়ছে সরকারী স্বার্থ সংরক্ষণ ও পাবলিক সেবার উপর। এক দিকে উপযুক্ত স্থানাভাবে রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না, একইভাবে দ্রুততার সাথে প্রয়োজনমত তথ্য সরবরাহ করতে তহশিলদারগণ হিমসিম খাচ্ছেন। এ বিষয়ে তহশিলদারদের সাথে কথা বলে জানা যায় নিয়মিত জরিপ
কাজ সম্পাদিত না হওয়ায় অনেক পুরাতন রেকর্ড নিয়ে কাজ করতে হয়, দীর্ঘদিনের পুরাতন রেকর্ডপত্র গুছিয়ে যথাযথভাবে রাখার মত কোন স্থান না থাকায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত নতুন রেকর্ড না পেলে এবং অফিসের অবকাঠামো সুবিধা না বাড়ালে এই সেক্টরের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দ্রুত ও ভাল সেবা পেতে হলে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন কাজের পরিবেশ অত্যন্ত জরুরী। আমাদের ভূমি অফিসগুলোর কাজের পরিবেশ মানসম্মত নয়। রেকর্ডপত্র ডিজিটাল করার পাশাপাশি ভূমি অফিসগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের সুনজর রয়েছে, পার্বতীপুরের উপজেলা ভূমি অফিসসহ ৮টি তহশিল অফিস নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে ইতোমধ্যেই প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে, আশা করি দ্রুত অনুমোদন পেয়ে যাব।