খেলাধুলা ডেস্ক: উত্তরের সীমান্ত ঘেষা দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণ এখন মূখরিত হয়ে উঠেছে। মাদকের ভয়ালথাবা থেকে তরুন ও যুব সমাজকে সুরক্ষায় লালিত করছে এ জেলার ক্রীড়াঙ্গন। গতানুগতিক খেলার পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ জেলায়। বিশেষ করে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের অলসতা কাটিয়ে তুলতে এসব খেলা উপভোগ করছে অগণিত দর্শক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং ক্রীড়ানুরাগীদের প্রচেষ্টায় সর্বত্রই চলছে ক্রীড়া উৎসব।
উত্তরের সীমান্ত ঘেষা জেলা দিনাজপুরে হাতের নাগালেই সর্বত্র পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য। আর এ মাদকের ভয়াল থাবায় এক সময় ঝিমিয়ে পড়েছিলো এ জেলার ক্রীড়াঙ্গণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং ক্রীড়ানুরাগীদের প্রচেষ্টায় আবারও মূখরিত হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণ। সর্বত্রই চলছে ক্রীড়া উৎসব। দিনাজপুর ক্রীড়া অঙ্গণের অতিপরিচিত মূখ ধারা ভাষ্যকার রফিক সরকার জানালেন,দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণ এখন খুব আলোকিত ও মুখতিত হয়ে উঠেছে। দিনাজপুরের যেখানেই তাকাবেন শুধু খেলা আর খেলা। বিভিন্ন ধরনের খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ জেলায়। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আলোকিত ও মুখরিত হয়েছে। আমি নিজে এখন খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি ইভেন্টে ধারা বর্ণনা করছি। সকাল বেলা হকি,ক্রিকেট,বিকেল বেলা ফুটবল,সন্ধা বেলা বাস্কেট বল ও ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগিতা। কাজের চাপে আমি এখন খাওয়ার সময় পাইনা। আসলে এসব কিছুই হয়েছে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি’র কারণে। তিনি ক্রীড়া অঙ্গনকে খুবেই ভালোবাসেন। ধারা ভাষ্যকার রফিক আরও বলেন, সব চাইতে আমাকে আরও বেশী ভালো লাগছে, আমাদের সীমান্তবর্তী এ জেলাতে এক সময় অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে থাকতো। এখন সেইসব মানুষকে আর মাদকের আসরে পাওয়া যায়না। এখন তারা খেলা-ধুলাতে এসছে। কেউ খেলছে,কেউ ক্রীড়া সংগঠক আবার কেউ দর্শক। এটা খুবই একটা ভালো দিক।
ক্রিকেট,ফুটবল,ব্যাটমিন্টন, ভলিবল,বায়েস্কের বল,হকি’র পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘোড় দৌড়,মহিষ দৌড়, তৈলাক্ত বাঁশ ও কলা গাছে বেয়ে ওঠা, তীর নিক্ষেপ, হাড়ি ভাঙ্গা, হা-ডু-ডু, বালিশ ফেকা, বস্তা দৌড়, ভারসাম্য দৌড়, ষাঁড়-বাছুর লড়াই, ছাগল দৌড়, পাতা খেলা, শিশু কান্না, মহিলাদের ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ জেলায়। শেষ করে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের অলসতা কাটিয়ে তুলতে এসব খেলা উপভোগ করছে অগণিত দর্শক। ভারত থেকেও টিম এসে এ জেলার টূর্ণামেন্টগুলোতে অংশ নিচ্ছে। এখন চলছে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ রড়ময়দানে দিনাজপুর ৮ম শেখ রাসেল ক্রীকেট টূর্ণামেন্ট। এ টূর্ণামেন্টে অংশ নেয়া ভারতের শিলিগুড়ি ঢিমের খেলোয়াড়রা জানান,তারা বাংলাদেশে আরও খেলেছে। কিন্তু অন্য কোথাও এমন সুন্দর পরিবেশে খেলায় আর কখনও অংশ নিতে পারেনি। দিনাজপুরের খেলা ও পরিবেশ তাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত খেলার অনুশীলন ও আয়োজন চলায় এ জেলায় অনেক তারকা খেলোয়াড় তৈরী হয়েছে। তারা জাতীয় পর্যায়ের টিমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলছে। জাতীয় টিমে অংশ গ্রহন করে নৈপূণ্যতার স্বক্ষর রাখছে এ জেলার খেলোয়াড়রা।এমটাই দাবী করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আবু ইবনে রজব। তিনি বলেন, আজ থেকে ৬/৭ বছর আগে দিনাজপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইভেন্টগুলোতেও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। দিনাজপুরের মাটি ও মানুষ এবং ক্রীড়াঙ্গণের প্রাণ পুরুষ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি’র প্রচেষ্ঠায় আজ আবারও দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মূখরিত হয়ে উঠেছে জেলার ক্রীড়াঙ্গন। তিনি জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জেলার ২৪টি ইভেন্টে বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন। ফুটবল,ভলিবল, হ্যান্ডবল,বায়েস্কেটবল,ক্রিকেট,হকিসহ প্রত্যেকটি খেলায় পৃষ্ঠ-পোষকতা করে আসছেন। শেখ রাসেল স্মৃতি টূর্ণামেন্ট, মানু স্মৃতি ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট,বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টূর্ণামেন্ট,প্রথম বিভাগ ফুটবললীগ,দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবললীগ সহ অসংখ্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দিনাজপুরে। রজব আরও বলেন, দিনাজপুর সীমান্ত ঘেষা জেলা হওয়ার কারণে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি নির্বাচনে ইস্তেহার দিয়েছিলেন,তিনি নির্বাচিত হলে জেলার যুব সমাজকে ক্রীড়াঙ্গণের মাঝে ব্যস্ত রেখে মাদকের ছবল থেকে বিরত রাখবেন। তার কমিটমেন্ট(প্রতিশ্রতি) তিনি রক্ষা করে যাচ্ছেন। তারই জ্বলন্ত প্রমান দিনাজপুরের আজকের ক্রীড়াঙ্গণ এবং গড়ে ওঠা দিনাজপুরের ক্রীড়া পল্লী। হুইপ ইকবালুর রহিমের অর্থ এবং হস্তক্ষেপে গড়ে উঠেছে এ ক্রীড়া পল্লী। ক্রীড়াঙ্গণে জড়িতদের জন্য এক সময় বাথরুম বা ড্রেসিং রুম ছিলো না। এখন সবই হয়েছে। ক্রীড়া পল্লী গড়ে তুলার পাশাপাশি তিনি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানকে সংস্কার করে উপযুক্ত খেলার পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। এ মাঠটি এখন সবসময় খেলায় মুখরিত থাকে। হুইপ ইকবালুর রহিম এবং আমারা মনে করি যতবেশী খেলা হবে ততইবেশী খেলোয়াড় তৈরী হবে। ভালো খেলোয়াড় তৈরী হবে। তারই প্রমান আমাদের দিনাজপুরের গর্ব লিটন দাস। যিনি বাংলাদেশের এ টিমে খেলছেন। বাংলাদেশ টিমের স্কোড ছিলেন তিনি। সঞ্জিত সাহা দ্বীপ।তিনি বাংলাদেশের টিমে শ্রীলংকা সফর করে আসলেন। নবীন ইসলাম।যিনি বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় টিমে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ টুর্ণামেন্টে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে আকর্ষনীয় গোলটি করে দিনাজপুরের হেমন্ত। হেমন্ত বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়ার হিসেবে দিনাজপুরকে গোলের মাধ্যমে সারা দেশে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরকম দিনাজপুরের অনেক ভালো খেলোয়াড় বাংলাদেশের অনেক খেলায় অংশ নিয়ে দিনাজপুরের মুখ উজ্জ্বল করছে।
জেলার ক্রীড়াঙ্গণকে প্রসারিত করতে ও ক্রীড়া ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা বিকেএসপি’র পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের প্রচেষ্ঠায় এ জেলায় গড়ে উঠেছে দিনাজপুর ক্রীড়া পল্লী। এ ক্রীড়া প্ল্লী’র মাধ্যমে বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন চলছে। খেলা ও খেলোয়াড় তৈরীতে পৃষ্ঠ-পোষকতা করা হচ্ছে।দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন,দিনাজপুর ক্রীড়া ক্ষেত্রে এক সময় অনেক অগ্রগামী ছিলো। মাঝখানে এ অঞ্চলে খেলা-ধুলা হতোই না বললেই চলে। সীমান্তবর্তী এ জেলায় প্রতিদিন মাদকের হিংস্র ছোবলে তরুণ ও যুব সমাজ বিপথে পরিচালিত হচ্ছিলো। আমি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেই এ এলাকার তরুন-যুব সমাজকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার জন্যে, মাদকের হিং¯্র ছোবল থেকে রক্ষার জন্যে,আমি চেষ্টা করেছি,দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন করার জন্য। সমস্ত ক্লাব-সংগঠন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শুনেছি। তাদের খেলা-ধুলার উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছি। দিনাজপুর স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়নের জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। যা এ জেলার ক্রীড়াঙ্গণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুরে একটি ক্রীড়া পল্লী গড়ে তুলেছি। যা এখন দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণের নিয়ন্ত্রক বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ ক্রীড়া পল্লী তৈরী হওয়ার পর এ জেলায় বেশ কিছু জাতীয় পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়াও এ জেলায় ভালো খেলোয়াড় তৈরী হচ্ছে। ১০ স্বর্ণ ও রৌপ আমরা অর্জন করেছি। ইতোমধ্যে নতুন করে আমরা ৮/১০টি নতুন টূর্ণামেন্ট চালু করেছি। হকি টূর্ণামেন্ট,বাস্কেটবল লীগ চালু করেছি। স্কেটিং রাউন্ড করেছি। যা বাংলাদেশের কোথাও নেই। আদিবাসী হকিতে দিনাজপুর চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। জাতীয় স্কুল ক্রীকেটও চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। মহিলাদের আমারা খেলায় অংশ গ্রহণ করাচ্ছি। উৎসাহ যোগাচ্ছি।
সরকারের পাশাপাশি ক্রীড়ানুরাগীদের পৃষ্ঠ-পোষকতা এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গণ আরও মুখরিত হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ক্রীড়াবিদরা।