মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় এবার তেজপাতা গাছের বাগানের প্রতি ঝুঁকছে এলাকার কৃষকরা। অল্প জমিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাগান করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালগাঁও গ্রামের কৃষক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক গত এক বছরে পূর্বে মাত্র ৫০ শতক জমিতে ৪ শতাধিক তেজপাতার গাছ রোপন করেন। এক বছরের মধ্যে এই বাগান থেকে তিনি দুই দফায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার পাতা বিক্রি করেন।
বছরে অন্তত দুই থেকে তিন বার তেজপাতার গাছ থেকে পাতা মুড়ানো যাবে। রকমারী বিভিন্ন খাদ্য তৈরী করতে মসলা হিসেবে তেজপাতা ব্যবহার হওয়ার কারনে এই অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে ও সখের বসে অনেকেই বাড়ীর আঙ্গিনায় তেজপাতার গাছ লাগালেও বানিজ্যিকভাবে তেজপাতার বাগান বোচাগঞ্জ উপজেলায় এটাই প্রথম এবং সবচেয়ে বড় বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে কৃষক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক তেজপাতার বাগানের পাশে প্রায় এক একর জমিতে আরেকটি তেজপাতার বাগান করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
তার বাগানের কেয়ারটেকার জানান, পূর্বে এই জমিতে অন্যান্য ফসল আবাদ করে ৫ বছরে যে লাভ হতো সেখানে তেজপাতার বাগান করে এক বছরে দ্বিগুন লাভ হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন এই গাছ থেকে পাতা মুড়িয়ে বাজারে বিক্রির সম্ভাবনা থাকায় কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া অন্যান্য ফসলের চেয়ে তেজপাতার গাছ পরিচর্চা করতে হয় কম।
উপজেরা কৃষি কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম জানান, একটু উঁচু ডাঙ্গা জমিতে তেজপাতার গাছ লাগাতে হবে। এই অঞ্চলের মাটি তেজপাতা গাছ আবাদের জন্য উপযোগি। এ জন্য বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের তেজপাতার গাছ আবাদের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় বোচাগঞ্জের কৃষকরা এখন দিন দিন তেজপাতা বাগান করার প্রতি ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে উপজেলার জালগাঁও, আখাপুর, মতিজাপুর, হাট মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বানিজ্যিকভাবে কৃষকরা তেজপাতার বাগান করেছেন।