ঢাকা: টানা আন্দোলনের দুই মাসের অধিক সময় পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় হতে বলেছেন।
পৌনে এক ঘণ্টার লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের বিগত আন্দোলনে ৪১ জন পুড়ে মারা যাওয়ার তথ্য দিলেও চলমান আন্দোলনে শতাধিক প্রাণহাণীর সংখ্যা তুলে ধরেননি। তবে ২০ দলীয় জোট নেত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ৪ জন এবং জোটের বাইরের একজনের নাম উচ্চারণ করেছেন।
এই নেতাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এবার আন্দোলন শুরুর পর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ছত্রছায়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের কর্মীদের হত্যা, গুম ও বন্দী অবস্থায় গুলি করে পঙ্গু করা শুরু করে। আমাদের দল- জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রাণনাশের উদ্দেশে গুলি চালানো হয়। গুলিতে রিয়াজ রহমানের মতো সজ্জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। প্রবীণ রাজনীতিক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়ি-ঘর, অফিস ও যানবাহনে গুলি, বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আমাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশে প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মীকে গত দু’মাসে তারা কারারুদ্ধ করেছে। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। বিরোধী দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তাতা করে তাদেরকে নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘদিন ধরে রিমান্ডে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের দলের অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় প্রায় এক মাস ধরে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের দলের অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে আপনারা জানেন। তাকে গ্রেপ্তার করেও গত দিনেও সরকার স্বীকার করেনি। এখনো পর্যন্ত তার হদিস নেই। বিএনপি ও ২০ দলের পক্ষে সালাহ উদ্দিন আহমেদের দেয়া বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার হতে থাকায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি আবারো সালাহ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর পরিণতি শুভ হবে না। আমাকে কত হীনপন্থায় হয়রানি ও হেনস্থা করা হয়েছে ও হচ্ছে; তার বিবরণ আমি দিতে চাই না। দেশবাসী সব জানেন এবং দেখছেন।’
২০ দলীয় জোটের বাইরে নেতা সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্নার ব্যাপারেও সরকার প্রথম অস্বীকার করে পরে নাটক সাজিয়ে ২১ ঘণ্টা পর তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।’



