খেলাধুলা ডেস্ক : অ্যাডিলেড ওভালে রোববার বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের ওপেনার সরফরাজ আহমেদ। তার ব্যাটিং নৈপূণ্যে আয়ারল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট খুইয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আয়ারল্যান্ডের। দলীয় ১১ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার পল স্টার্লিং। ৩ রান করা স্টার্লিংকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানের পেসার এহসান আদিল।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে এড জয়েসকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন আরেক ওপেনার উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। তবে জয়েসকে (১১) ফিরিয়ে তাদের ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ। জয়েসকে উমর আকমলের ক্যাচে পরিণত করেন রিয়াজ।
দলীয় ৮৬ রানে নেইল ও’ব্রায়েনকে (১২) বিদায় করেন রাহাত আলী। এরপর অ্যান্ডি বালবিরনিকে নিয়ে ৪৮ রানের আরেকটি জুটি গড়েন এক প্রান্ত আগলে রাখা পোর্টারফিল্ড। বালবিরনিকে (১৮) শহীদ আফ্রিদির ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হারিস সোহেল।
ইনিংসের ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন পোর্টারফিল্ড। পরের ওভারেই সোহেল খানের বলে শহীদ আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ১৩১ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রান করেন পোর্টারফিল্ড। পঞ্চম উইকেটে পোর্টারফিল্ড-গ্যারি উইলসন জুটিতে আসে ৪৮ রান।
পোর্টারফিল্ডের বিদায়ের পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন উইলসন (২৯)। তাকেও বিদায় করেন ওই সোহেল খান। ফলে আয়ারল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৯/৬। দলীয় ২০৪ রানে স্টুয়ার্ট থম্পসনকে ফিরিয়ে আয়ারল্যান্ডের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটান রাহাত আলী। ১২ রান করা থম্পসনকে উমর আকমলের তালুবন্দি করান রাহাত।
ইনিংসের শেষ বলে আয়ারল্যান্ড অলআউট হলেও কেভিন ও’ব্রায়েন (৮), জন মুনি (১৩) ও জর্জ ডকরেলের (১১) ব্যাটে স্কোর ২৩৭ পর্যন্ত নিতে পারে। ইনিংসের শেষ বলে রানআউটের শিকার হন ডকরেল।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ। এ ছাড়া সোহেল খান ও রাহাত আলীর ঝুলিতে জমা পড়ে ২টি করে উইকেট।
২৩৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও সরফরাজ আহমেদ। ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি তুলে নেন শেহজাদ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন সরফরাজ। দলীয় ১২০ রানে শেহজাদকে ফিরিয়ে তাদের বড় জুটি ভাঙেন স্টুয়ার্ট থম্পসন। ৭১ বলে ৭টি চারে ৬৩ রান করেন শেহজাদ।
এরপর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে হারিস সোহেলের উইকেট হারায় পাকিস্তান। সরফরাজের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউটের শিকার হন হারিস। দলীয় ২০৮ রানের মাথায় মিসবাহকে সাজঘরে ফেরান কুসাক। বিদায়ের আগে ৪৬ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার মারে ৩৯ রান করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। এ ছাড়া তৃতীয় উইকেটে সরফরাজের সঙ্গে ৮২ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে রেখে যান মিসবাহ।
এরপর অবশ্য উইকেট হারাতে হয়নি পাকিস্তানকে। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন সরফরাজ ও উমর আকমল। ২৯ বলে ৪টি চারের মারে ২০ রান করেন আকমল। আর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি আদায় করে নেন সরফরাজ। শেষ পর্যন্ত ১২৪ বলে ৬ টি চারের সাহায্যে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
১০ ওভারে ৪৩ রান খরচায় ১টি উইকেট নেন কুসাক। বাকি উইকেটটি দখলে নেন থম্পসন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান সরফরাজ আহমেদ।
অপরদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোববার নেপিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭৫ রানে অলআউট হয়ে যায় আরব আমিরাত। জবাবে ৬ উইকেট ও ১১৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কোনো বেগই পেতে হয়নি ক্যারিবিয়ানদের। জনসন চার্লস ও জনাথন কার্টারের ফিফটিতে সহজেই জয় তুলে নেয় তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন জনসন চার্লস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন জনাথন কার্টার। এ ছাড়া দিনেশ রামদিন ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে আমিরাত। মাত্র ২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দলটি। দলের স্কোর ৪৬ রানে পৌঁছাতেই ষষ্ঠ উইকেট খোয়ায় আমিরাত।
এরপর আমজাদ জাভেদ ও নাসির আজিজ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সপ্তম উইকেটে ১০৭ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে পথ দেখান তারা। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আমিরাত। যে বিপর্যয় আর সামাল দিতে পারেননি তাদের ব্যাটসম্যানরা। ফলে ৪৭.৪ ওভারে ১৭৫ রানেই ইনিংস গুটিয়ে যায় আমিরাতের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন নাসির। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৬ রান আসে আমজাদের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া ১৪ রান করেন মোহাম্মদ নাভেদ। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। এ ছাড়া জেরম টেলর তিনটি ও আন্দ্রে রাসেল নেন দুটি উইকেট।
ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।