• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

বাবা রে আর পারি না…

chilmari-14-3-15হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : ‘বাবা রে আর পারি না। বয়সের কারণে এখন আর চলতে পারি না। চোখেও ঠিক মতো দেহি না। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা কইরা সংসার চালাই। বয়স্ক ভাতাও নাই বিধাব ভাতাও পাই না। সরকার থেইক্কা কোন সাহায্য আইলেও জুটে না মোর কপালে। যামার আছে তামরা আরো বেশি পায়। ওমরা যে সরকারি মাল নেয় ওমার শরম লাগে না?’ কথাগুলো একনাগাড়ে বলেছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাছাবান্দা গ্রামের মৃত আঃ হকের স্ত্রী ফজিলা (৭০)। ফজিলা আরো জানান, স্বামী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে নিয়ে আমার সংসার ভালোই চলছিল। স্বামী মারা যাওয়া ছেলে মেয়ে দের বিয়ে হয়ে তারা আলাদা হয়ে যাওয়ায় মুই হয়ে যাং একা এর পর ঘটে আর এক ঘটনা মোর স্বামী মারা যাওয়ার পর ননদরা স্বামীর বাকি ভিটা টাও কৌশলে কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সে সমায় এলাকার জয়নাল মাষ্টার একনা জায়গা দেয় আর তখন থাকি জায়গা কোনাত ঘর তুলে আছোং। বাড়ি ভিটা বলতে মোর আর কিছুই নাই। সারাদিন ভিক্ষা করে যা পাং তা দিয়েই সংসার চলাতে হয়। পাইলে খাং না পাইলে না খাং। বড় ছেলে শোকর মিয়া, আর ছোট ছেলে ফরিদুল বিয়ে করে হয়ে গেছে আলাদা গায়ে খাটি ওমরা নিজেদের বউ ছাওয়া নিয়ে ব্যস্থ। স্বামী হারা ১ মেয়েও মোর কাঁধে। স্বামী মারা যাওয়ার পর বড় মেয়ে এজিয়াও মোর মতো ভিক্ষা করে। আর ছোট মেয়ে আম্বিও থাকে মোর সাথে। আর মেজো মেয়ে আমিনা স্বামীর বাড়িতে। চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েকবার গেছনু, হামার কথা কেডা শোনে’। হামরা যে, ট্যাকা দিয়ে পারি নে। বাবারে ওমরা (মেম্বার, মহিলা মেম্বার, চেয়ারম্যানরা) ট্যাকা ছাড়া কিছু দিবের চায় না। যামরা ওমাক ট্যাকা দেয় ওমরা তামাকে দেয়। ইউপি সদস্য মশিউর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিধবা ভাতার নতুন কোন নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। কেউ মারা গেলে এই জায়গায় আরেকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়। পরবর্তিত্বে সুযোগ হলে বিষয়টি আমি দেখবো। এখন নেই। ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিমুজ্জামান বাবলুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যখন যা কিছু আসে তা তো আমি মেম্বারদের ভাগ করে দেই। আর টাকা নেওয়ার কথা তিনি অশিকার করেন। তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে এই সব চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নিজেদের ভারাটিয়া লোকজন দিয়ে বিভিন্ন কার্ডের টাকা উত্তলন করে থাকেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ