• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন |

অভিজিৎ হত্যায় বুয়েট শিক্ষক তারিক ফারসীম মান্নান জড়িত !

Ajoy_Roy-1426861388সিসি ডেস্ক: বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, শিক্ষক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায়ের হত্যার সঙ্গে বুয়েটের শিক্ষক তারিক ফারসীম মান্নান জড়িত বলে সন্দেহ করছেন অজয় রায়। এ সময় তারিকের সঙ্গে অজ্ঞাত চার-পাঁচজন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিজিতের বাবা অজয় রায় বলেন, ‘আমি ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য সিআইডির কাছে জমা দিলেও এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তবে আমি আশাবাদী, এফবিআই যে তদন্ত করেছে তাদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা মূল আসামিদের ধরতে সক্ষম হবেন।’

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘ড. অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের ক্ষমা নেই’ শীর্ষক এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক কমিটি।

অজর রায় বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়ার আগে অভিজিৎ ও বন্যা যাদের সঙ্গে ছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান করে আমি এ প্রেক্ষাপট পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ফারসীম মান্নান ফেসবুকের একটি মেসেজের মাধ্যমে আলোচনাসভা ডাকে। রাত ৮টার দিকে তারা গ্রন্থমেলায় একত্রিত হয়। এতে অভিজিৎ, বন্যা ও ফারসীমসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিল। পরে আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি, তাদের মধ্যে চার-পাঁচজন যুবক অনাহূত ছিল। তাদের কেউ আমন্ত্রণ করেনি। ওই চার-পাঁচজন জরো টু ইনফিনিটি  ও পাই নামে দুটি ম্যাগাজিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আর এটি শিবিরের একটি সার্ভার থেকে পরিচালিত হয়।’

তিনি আরো বলেন, তারিক ফারসীম এই টিমের প্রধান উপদেষ্টা। ওই ম্যাগাজিন দুটির সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন শিবিরের ওপর মহলের সক্রিয় সদস্য। আলোচনাসভাতেই আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই ছেলেদের বলেন, তোমাদের ডাকা হয়নি তোমরা কেন এসেছ? তখন ওই ছেলেগুলো বলে, আমাদের স্যার ডেকেছেন। স্যার হচ্ছেন ফারসীম মান্নান। ওই আলোচনার পরেই অভিজিৎ ও বন্যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হয়ে আসেন। সম্ভবত সাড়ে ৮টা/৯টার দিকে উদ্যানের ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় অভিজিৎ ও বন্যার ওপর আততায়ীরা হামলা চালায়।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বেশ কিছুকাল ধরে বাংলাদেশ আক্রান্ত হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের দ্বারা। এ দুই অপশক্তিকে পরাস্ত করতে না পারলে বাংলাদেশ বাংলাদেশ থাকবে না।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বশক্তি দিয়ে এ অপশক্তিকে পরাস্ত করতে হবে। আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যা নতুন কিছু নয়। এটি হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দারদের ধারাবাহিকতা মাত্র। সময়মতো তাদের হত্যার বিচার না হওয়ায় এসব হত্যাকাণ্ড বেড়ে চলেছে। আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি সে চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তাদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব এবং ওই তাতে আমাদের জয়লাভ অনিবার্য। মৌলবাদের সঙ্গে পরমত-অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অভিজিতের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আমাদের সংগ্রাম চলছে এবং চলবে।’

অনুষ্ঠানে ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম লেনিন প্রমুখ। উৎস: রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ