• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন |

গাজায় শিশুদের সঙ্গে বেড়ে ওঠছে দুই সিংহ শাবক

image_121629_0সিসি ডেস্ক: জর্জ ও জয় অ্যাডামসন দম্পতির বর্ন ফ্রি, লিভ ইন ফ্রি, ফরএভার ফ্রি-র কথা অনেকেই হয়তো ভোলেননি৷তবে এবার আফ্রিকা নয়, ফিলিস্তিনি গাজা ভূখণ্ডে ঘটছে হুবহু লিভ ইন ফ্রি-র পুনরাবৃত্তি৷ ইসরাইরি বিমান হানায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিয় গাজা ভূখণ্ডের শরণার্থীশিবিরে একটি পরিবারে বেড়ে উঠছে দুটি সিংহশাবক। অল্প সময়েই তারা ওই পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে বিপুল ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠেছে৷

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মী সাদ-আল-জামালের পরিবারে সিংহশাবক দু’টি বেড়ে উঠছে। গাজার দক্ষিণে রাফায় অবস্থিত চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ অর্থসংকটের কারণে সাদ-ই-জামালের কাছে দু’মাসের সিংহশাবক দু’টি বিক্রি করে দিয়েছিল। পরে সিংহশাবক দু’টিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন সাদ-আল-জামাল। সিংহশাবক দু’টিকে পেয়ে সাদ-আল-জামালের চার নাতি-নাতনি ও প্রতিবেশী শিশুরা দারুণ খুশি।
জামাল জানিয়েছেন, গত ১০ সপ্তাহ ধরে সিংহশাবক দুটি তার পরিবারে অন্য সদস্যদের মতোই রয়েছে। তিন কক্ষের বাড়িটিতে দিনভর শিশুরা সিংহশাবক দুটির সঙ্গে খেলা করেই সময় কাটিয়ে দেয়। তাতে অন্তত এই শিশুরা গৃহযুদ্ধের আবহাওয়ার মধ্যে থেকেও সেই পরিস্থিতিকে ভুলে থাকতে পারে৷ দু’টি সিংহশাবকের মধ্যে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে৷তাদের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক্স ও মোনা৷ তবে বর্তমানে সিংহশাবক দু’টির ভরণপোষণের খরচ বহন করতে যৌথ পরিবারটিকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ, দিনে তাদের আধ কেজি করে মাংস খেতে দিতে হয়। গত জুলাই-অগস্টে ইসরাইলি বিমান হানার পর গাজায় মাংসের দাম অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।

সিংহশাবক দু’টির বয়স পাঁচ মাস হলে মিশরের লোহিত সাগর কিংবা লেবাননের ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী কোনো পর্যটনকেন্দ্র বা রেস্তরাঁয় তাদের লিজ অথবা ভাড়া দিয়ে কিছু অর্থ আয় করার পরিকল্পনা করছেন জামাল। সিংহশাবক দু’টি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ভালো প্রস্তাবও পেয়েছেন তিনি। তবে এ কথা শুনে জামালের নাতি-নাতনি ও পড়শিরা বেজায় কষ্ট আছে৷তারা আর তাদের খেলার দুই সঙ্গীকে হারাতে চাইছে না৷ কারণ ইতিমধ্যেই তারা তাদের পরিবারের বহু সদস্যকে হারিয়েছে৷ তাই তাদের এই বন্ধুদের হারাতে হবে ভেবেই মনোকষ্টে ভুগছে বাচ্চারা৷-ওয়েবসাইট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ