কৃষি ডেস্ক: আমাদের বসতবাড়ির আশেপাশে অনাদরে অবহেলায় বেড়ে ওঠা সজনে এখন আর ফেল না নয়। সজনে সবজি হিসেবে যেমন উপাদেয়, এর ভেষজগুণও অসাধারণ। ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাণীনগরের কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজনে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সজনে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দক্ষিনের ১০ জেলায়। আগে কৃষকরা বসতবাড়ির আশপাশে নিজেদের খাওয়ার জন্য সজনে গাছ রোপণ করতেন। অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠত। নিজেদের চাহিদা মিটলেই তা যথেষ্ট মনে করা হতো। কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন। সজনে এখন দামি ভেষজ সবজির স্থান লাভ করেছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এখন দাম কমে গেলেও প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৪৫/৫০ টাকায়। কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা বসতবাড়ির আশপাশে ও ক্ষেতের আইলে সজনে গাছ রোপন করছেন। অন্য সবজি বিক্রি করতে বাজারে গিয়ে বসে থাকতে হলেও ব্যাপারিরা বাড়িতে এসে সজনে কিনে নিয়ে যায়। পরে সেগুলো ব্যাপারিরা ঢাকাসহ বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল, ঝিনাইদাহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় চালান করেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, বসন্তের শুরুতে সজনে গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতেই কঁচি সজনে ডাঁটা খাওয়ার উপযোগী হয়ে পড়ে। সাধারণ শাখা কেটে রোপন করার মাধ্যমেই সজনে বংশবিস্তার করা হয়। রোপনের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করা যায়। সজনে ডাঁটার পাশাপাশি ফুল ও পাতাও সবজি হিসেবে উপাদেয় এবং জনপ্রিয়। সজনে সবজি হিসেবে যেমন উপাদেয়, এর ভেষজগুনও তেমন অসাধারণ। মৌসুমে নানা রোগব্যাধির নিরাময় ও শরীরে এসব রোগের প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে বসন্ত, জন্ডিস, মুত্রসংক্রান্ত সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকে সজনের নানা অংশ ব্যবহার করে আসছেন ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা। উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক আলাউদ্দিন জানান, পরিকল্পিতভাবে পতিত জমিতে সজনে চাষ করে তিনি গত বছরের চেয়ে এ বছর সজনের দাম কিছুটা কম থাকায় তিনি ৬ হাজার টাকা আয় করেছেন। এ জন্য তাকে তেমন কোন ব্যয় করতে হয়নি। রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারোয়ার জানান, মূল্যবান ভেষজ হিসেবে সজনের কদর দিন দিন বাড়ছে, ফলে কৃষক সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।