সিসি ডেস্ক: গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলার সংশোধিত অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ সংশোধিত অভিযোগ গঠন করে ২৭ মে সাক্ষ্যর জন্য দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশোধিত এ অভিযোগ গঠন করা হয়।
১১ মে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ বদলি করেন। এর আগে এ সক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে সন্ত্রাসীর হাতে নিহত হন রাজীব হায়দার শোভন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০) ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।
আটক আসামিরা এরই মধ্যে আদালতে রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করলেও অন্য আসামিরা তাদের স্বীকারোক্তিতে রাহমানীকে রাজীব হত্যার নির্দেশদাতা বলে উল্লেখ করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামি আনসারুল্লার প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে- এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা সবাই নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা এ খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগের সূত্র তৈরি হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, জসীম উদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানীকে এই হত্যায় উৎসাহদাতা হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজীব ‘থাবা বাবা’ নামে ব্লগ লিখতেন যেখানে ধর্মান্ধতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে লিখতেন তিনি।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সিএমএম আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৫৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়। ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।