নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিক শিক্ষকের বাড়িতে ছয় দিন থেকে অবস্থান নিয়েছে এক কলেজ ছাত্রী। এদিকে প্রেমিকার এমন অবস্থানের কারণে ছয় দিন থেকে বাড়ি থেকে পলাতক রয়েছে ওই প্রেমিক স্কুল শিক্ষক। এমনকি তিনি স্কুলেও অনুপস্থিত রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছোটখাতা গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথের ছেলে সত্যেন্দ্র নাথ রায় (৪০) পার্শ্ববতি গয়াবাড়ি ইউনিয়নের হরিসভাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদানের পর থেকে হরিসভাপাড়া গ্রামের নিশিকান্ত রায়ের মেয়ে এবং ডিমলা ইসলামিয়া কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মায়া রানী (২২) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে।
এনিয়ে গত ৩ জুন রাতে মায়ার নিজ বাড়ি সংলগ্ন নির্জন বাগানে দু’জনকে এক সাথে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী তাদের আটক করে প্রেমিক সত্যেন্দ্র নাথ রায়ের পরিবারের হাতে তুলে দেয় তাদের দু’জনের বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য। সত্যেন্দ্র নাথের পরিবার সকালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু সকালে প্রেমিক সতেন্দ্র বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেই থেকে প্রেমিকা মায়া রানী বিয়ের দাবিতে ছয় দিন থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেছে।
মায়া রানী রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে সতেন্দ্র নাথের সাথে প্রেমের সর্ম্পক আমার। সেই সর্ম্পকের জের ধরে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য বার সে আমার সাথে শাররিক সর্ম্পক চালিয়ে আসছিল। কিন্তু যে দিন থেকে আমি তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি পরের দিন থেকে সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে তবে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।’
এদিকে সত্যেন্দ্র নাথের বাবা ধীরেন্দ্র নাথ রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে বিবাহিত। তার দুইটি সন্তান রয়েছে। সে এমন কাজ করতে পারে না। মেয়েটি জোরপূর্বক আমার বাড়িতে উঠেছে। এবিষয়ে তার পরিবারকে জানানোর পরেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে অত্যাচার সৃষ্টি করায় আমি বাদি হয়ে নীলফামারী জজ আদালতে একটি সার্চ ওয়ারেন্টের আবেদন করেছি।’
ধীরেন্দ্র নাথে অবিযোগ অস্বীকার করে মায়ার বাবা নিশিকান্ত রায় জানন, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমাদের সম্মান আগে। কিন্তু লম্পট সত্যেন্দ্র আমার মেয়ের সর্বনাশ করে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি আমার মেয়ের সর্বনাশের বিচার চাই সত্যেন্দ্র নাথের পরিবারর কাছে। ’
গয়াবাড়ী হরিসভা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্ডি দাস রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেশ কয়েক বার সত্যেন্দ্র নাথ রায়কে সর্তক করেছি আমি, কিন্তু সে কোন সর্র্তকতায় মানেনি। ঘটনার পর থেকে গত ছয় দিন থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে শিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়। তার অনুপস্থিতের বিষয়টি সহকারী শিক্ষ কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।
এদিকে সার্বিক বিষয় নিয়ে খালিশা চাাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ও গয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইবনে ফয়সাল মুন বলেন, ছেলে ও মেয়ের পরিবারের কেউ আমাদের বিষয়টি অবগত করেনি। তবে মঙ্গলবার দুপুরে ডিমলা থানা পুলিশ এসে মেয়েটিকে নিয়ে গেছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্র্মকর্তা রুহুল আমীন খান জানান, স্কুল শিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়ের বাবা ধীরেন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে মায়া রানীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মায়া রানীর বিরুদ্ধে সার্চ ওয়ারেন্ট ইসু করে । আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাদীর বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’