• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন |

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি: খুলে দেয়া হয়েছে ব্যারেজের ৪৪ গেট

tista-barসিসি নিউজ: তিস্তা নদীতে উজান থেকে ঢল নেমেছে। বর্ষার আগেই হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নব যৌবনে ফিরে আসছে তিস্তা নদী। নদীজুড়ে চলছে উথাল পাতাল ঢেউ- এর সাথে প্রচন্ড স্রোতধারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেখা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের বন্যা পূবাভাস সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র মতে পাহাড়ি ঢল ও উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে শুক্রবার তিস্তা নদীতে ঢল নেমেছে। সুত্র মতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১২ ঘন্টার ব্যবধানে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। ফলে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম ও নদীর চর প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, কিসামতের চর, ছাতুনামা প্রভৃতি।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিস্তার নদীর পানি আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তিস্তাপাড়ের ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর চরের নৌকার মাঝি হারুর অর রশিদ প্রামানিক(৪২) জানালেন বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তিস্তা নদীতে যেন জোয়ার শুরু হয়েছে। এ জোয়ারে তিস্তা ফুলে ফেপে উঠছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পায়। হারুনের মতে এবার বর্ষার শুরুতেই তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে উজানের ভারী বর্ষন ও ঢল নেমে আসায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে মরা তিস্তা নদী। শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নব-যৌবনে ফিরে এসেছে তিস্তা। নদীজুড়ে চলছে শোঁ-শোঁ শব্দে স্রোতধারা।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদীর পানি শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্ট বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা তিনটায় পানি আরো কমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচে চলে এসেছে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় যে কোন সময় তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট ২৪ ঘন্টাই খুলে রাখা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ