খেলাধুলা ডেস্ক: বিশ্বকাপের প্রতিশোধের ম্যাচে ভারত বধের নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেকেই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নামান নবাগত এই পেসার।
বাংলাদেশের দেওয়া ৩০৮ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ২২৮ রানে শেষ ভারতের ইনিংস। ৭৯ রানের জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ।
টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য ও তামিমের দাপট। ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৭৯। দলীয় ১০২ রানে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন ফিল্ডার রায়না। তামিম আর সৌম্যর খানিকটা ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন সৌম্য। সাজঘরে ফেরার আগে সৌম্য ঝড়ে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ৫৬ মিনিটের ঝড়ে মাত্র ৪০ বলে ৫৪ রান করেন সৌম্য। যেখানে ৮টি চারের সঙ্গে ছিল ১টি বিশাল ছক্কার মার। সৌম্যর বিদায়ের পরও ব্যাট চালিয়ে যান তামিম। দলকে টেনে নিয়ে যান সম্মানজনক জায়গায়। মাঝে বৃষ্টির বাগড়ায় এক ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ ছিল।
বৃষ্টির পর ম্যাচ শুরু হলে বাংলাদেশের ইনিংসে ছন্দপতন হয়। মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তামিম ৬০, লিটন ৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৪ রানে আউট হন।
কিন্তু বিচলিত হয়নি টাইগাররা। ভরসার নাম সাকিব আল হাসান ও দুর্বার সাব্বির রহমান রুম্মান পঞ্চম উইকেটে ৮৩ রান যোগ করেন। সাকিব আর রুম্মানের ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে ৩৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ২১৩।
কিন্তু ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে সাব্বিরের (৪১) বিদায়ের পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু সাকিব ব্যাট চালিয়ে যান ৪৪ ওভার পর্যন্ত। পয়েন্টে জাদেজার বলে আউট হওয়ার আগে ৫২ রান তুলে নেন। এরপর নাসিরের ৩৪ ও মাশরাফির ২১ রানের ইনিংসে ৩০৭ রান করে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মত তিন শতাধিক রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। আর নবমবারের মত ওয়ানডেতে তিনশ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে ভালো পুঁজি পেয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। কিন্তু শেখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম আট ওভারে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু নবম ওভারে রুবেল বোলিং এসে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। ধাওয়ান উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান মুশফিকের হাতে। পরের ওভারে আবারো মুশফিকের হাতে জীবন পান ভারতের বাঁহাতি এই ওপেনার।
দুই দুবার জীবন পেয়ে কিছুটা চড়াও হয়ে খেলে যান শিখর। তাকে সঙ্গ দেন রোহিত। কিন্তু সবকিছু পাল্টে যায় ভারতের দলীয় ৯৫ রানে। তাসকিন দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে ফিরিয়ে দেন ধাওয়ানকে (৩০)। এক ওভার পার আবার তাসকিনের শিকার কোহলি (১)। দলীয় ৯৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ১২৮ পর্যন্ত যেতে আরো চার উইকেট হারায় ওয়ানডের দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
তাসকিনের দুই উইকেট শিকারের পর বল হাতে আলো ছড়ান মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ছক্কা খাওয়া রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন এক স্লোয়ারে। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করা রোহিত মুস্তাফিজের স্লোয়ারে অসহায়! এরপর রাহানেকে (৯) নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন বাঁহাতি মুস্তাফিজ।
তাসকিন আর মুস্তাফিজের জোড়া আঘাতের পর সাকিব ২৬তম ওভারে প্রথমবারের মত বোলিংয়ে এসে তুলে নেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির উইকেট। ৫ রানেই শেষ ধোনির ইনিংস। দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ভারতকে ষষ্ঠ উইকেটে টেনে তুলেন রায়না ও জাদেজা। ৬০ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান।
কিন্তু মুস্তাফিজের দিনে ভারতের মাথা ওঠানোর সাধ্য কি আছে! ৩৭তম ওভারে বাঁহাতি পেসারের পরপর দুই বলে রায়না (৪০) ও অশ্বিন(০) সাজঘরে। একই ধরনের বলে দুজন আউট। বাঁহাতের আঙুলের কারুকার্যে দুজনকে ফেরানোর পরও ক্ষান্ত হননি মুস্তাফিজ। নিজের পরের ওভারে জাদেজাকে (৩২) আউট করে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার স্বাদ নেন বয়সে বিশ না পেরুনো মুস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত পাঁচ উইকেট নিয়েই ক্ষান্ত হন সাতক্ষীরার এই উদীয়মান তারকা। ৪৩ রানে তুলে নেন ভারতের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। এর অগে তাসকিন আহমেদ নিজের প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে নেন পাঁচ উইকেট।
অষ্টম উইকেট হারানো ভারতের পরাজয় তখন ছিল মাত্র সময়ের ব্যাপার। মাথা গুড়াতে না পারলে ভারতের ব্যাটিংয়ের লেজটা গুড়িয়ে দিয়েছেন মাশরাফি ও সাকিব।