সিসি নিউজ: ফের বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তিস্তার বন্যায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা অববাহিকার প্রায় ৪০টি চর ও গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র্র সুত্র মতে ডালিয়া পয়েন্ট ২৪ ঘন্টায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকড করা হলেও উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যরাজ পয়েন্টে সকালে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে থেকে উজানের ঢল নামতে থাকে। ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, উত্তর খড়িবাড়ি, দক্ষিণ খড়িবাড়ি, পুর্বখড়িবাড়ি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িতে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, প্রথম রমজানের রাতের সেহেরী খেতে পারেনি বন্যা কবলিত মানুষজন। যে সময় মানুষজন সেহেরী খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে সময় বানের পানি এসে ঘরবাড়ি তলিয়ে দেয়।
পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, তিস্তা বেষ্টিত গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। ঘর বাড়িতে হাটু পানি উঠেছে।
উল্লেখ যে গত ১৩ জুন থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা দিয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর পানি নেমে যায়। বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটার তিনদিন পর তিস্তা ফের বিপদসীমায় এসে তিস্তা অববাহিকায় বন্যার সৃষ্টি করলো