সিসি ডেস্ক: ঢাকায় নামিদামি স্কুল ও কোচিংগুলোতে শুরু হয়েছে নানান অসামাজিক কর্মকাণ্ড। যা শুনলে সবার আঁতকে উঠারই কথা। বাচ্চা বয়সে এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেয়ার মতো নয়। কিশোর শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছে এই কুরুচিকর আসক্তিতে।
শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মোবাইলে লুকিয়ে-লুকিয়ে মেয়ে সহপাঠীর ছবি ও ভিডিও উঠাচ্ছে হর-হামেশা। আর এই ছবি বা ভিডিও পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানীর নীলক্ষেত হাতিরপুলের কিছু দোকানে।
সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ওই মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্থিরচিত্রের মুখের অবয়ব জুড়ে দেয়া হচ্ছে পর্নো ভিডিওতে। মেয়েটি তো বুঝতেই পারছে না, এমনকি যে ছেলেটি ছবি তুলেছে সেও জানে না শেষ পর্যন্ত তার তোলা ওই ছবি কী সর্বনাশ ডেকে আনছে।
সম্প্রতি উঠতি বয়সীদের মধ্যে পর্নোছবি দেখার চেয়ে সেটা তৈরি ও বিলি বণ্টনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। যার পরিণতিতে ধর্ষণচেষ্টার দৃশ্য বা যৌননিপীড়নের দৃশ্য ধারণ করে সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
সম্প্রতি বাগেরহাটের একটি স্কুলে জোর করে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ছবি তোলে তার সহপাঠীরা। কোচিং-এর বন্ধুরা সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে মেয়েটির পরিবার সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে থাকে। একপর্যায়ে হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে ওই ভিডিও। মেয়েটি পরে আত্মহত্যা করে।
কিছু অসাধু লোক শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কোচিং থেকে মেয়েদের চলাফেরা ও নানা অঙ্গের ‘ক্লোজশট ভিডিও’ নিয়ে আসতে বলে।
প্রতি ক্লিপ দেড়শ টাকা করে দেওয়ার চুক্তি হয়। কথামতো ভিডিও করে তারা টাকার বিনিময়ে বিলি করছে। আর ওটা দেদারসে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করার একটি অসাধু চক্র আছে। এ কাজে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা।
অপরাধের মাত্রা না জেনে যে কাজটি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের সঙ্গে করছে তা জামিন অযোগ্য। প্রমাণ হলে ৫ বছরের জেল ও ২ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
অভিভাবকরা দাবি করছেন, স্কুল কলেজে টেলিফোন বা ট্যাব ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে স্কুলে মোবাইল নিতে দেওয়া হয় না। ক্লাস সিক্সের পর সঙ্গে মোবাইল থাকলেও ক্লাসরুমে তা নেওয়া যায় না।