সিসি ডেস্ক: পঁচা গম আমদানির দায়ে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের রাঘববোয়ালরা। গম কেলেঙ্কারির নেপথ্যের ৮ কুশিলবকে চিহ্নিত করেছে সরকারের দুটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পঁচা গম আমদানির সঙ্গে এক মন্ত্রীর দুই নিকটাত্মীয়, বিএনপি সরকারের আমলের চট্টগ্রামের এক সাবেক মন্ত্রীর ভাগ্নে এবং মন্ত্রণালয়ের এক কর্তাব্যক্তির পরিবারের এক সদস্য জড়িত। গোয়েন্দাদের এই তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল জমা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সরকারের দয়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা যায়।
ব্রাজিল থেকে প্রায় সোয়া ৪শ কোটি টাকার গম আমদানিতে কমিশন বাণিজ্য কত হয়েছে, কারা কত নিয়েছেন এবং কোনো ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে খাবার অনুপযোগী পোকায় খাওয়া পঁচা গম নিতে বাধ্য করা হয় তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ রিপোর্ট নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। খাদ্য মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় খাদ্য অধিদফতরের গম আমদানিকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মো. সারওয়ার খানকে ওএসডি করে তাৎক্ষণিক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও এ ক্ষেত্রে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
পচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওএসডি হওয়া সাবেক মহাপরিচালক সারওয়ার খানসহ খাদ্য অধিদফতরের শীর্ষ তিন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে খাদ্য অধিদফতরের দুই কর্মকর্তা ৩৭ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তারা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও এ ঘটনায় যাদের নাম এসেছে তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। ওএসডি হওয়া খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সব তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। কাদের চাপে পচা গম খালাসের অনুমতি দিয়েছিলেন। তাদের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ও তিনি প্রকাশ করেছেন।
একটি সিন্ডিকেটের কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে খাদ্য অধিদফতর গম আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটই খাদ্য অধিফতরের সব টেন্ডার ও খাদ্যশস্য আমদানি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। প্রায় সোয়া ৪শ কোটি টাকা দামের ২ লাখ টন গম আমদানির কার্যাদেশ পায় ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ইমপেক্স দেড় লাখ এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল পায় ৫০ হাজার টন গম সরবরাহের দায়িত্ব পায়।
ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল নেদারল্যান্ডসের গ্যালকো কোম্পানির বাংলাদেশি এজেন্ট। ইমপেক্সের দেশীয় প্রতিনিধির নাম শহীদ জাহাঙ্গীর। খাদ্য অধিদফতরের গম আমদানি প্রক্রিয়ায় ইমপেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইমপেক্স সম্প্রতি অধিদফতরের আরো দুই দফায় নিম্নমানের গম সরবরাহ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর ওলাম হচ্ছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের দেশীয় এজেন্ট কায়েদ আজম নামে এক ব্যক্তি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশীয় এজেন্ট হিসেবে যাদের নাম এসেছে এগুলো আসলে ছদ্মনাম। পর্দার আড়ালে থেকেই শীর্ষ ব্যক্তিরা এ গম আমদানি করেছেন। তুরস্ক থেকে গম এনে দেওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতার অজুহাতে ব্রাজিল থেকে তাড়াহুড়া করে কম দামে মানহীন ও খাওয়ার অনুপযুক্ত গম বাংলাদেশে আনা হয়। সরকার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের মধ্যে রেশন হিসেবে যে আটা সরবরাহ করে তা এ গম থেকে প্রস্তুত করা হয়। এ গম দিয়ে টিআর-কাবিখার প্রকত্মও চালানো হয়। আস