• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন |

রাজ্জাককে নিয়ে ফিরলো বিজিবি

razzak1434823226সিসি ডেস্ক: মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) হাতে অপহৃত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক রাজ্জাককে আটদিন পর দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিয়ানমারের মংডুতে পতাকা বৈঠকে তাকে ফেরত দেয়া হয়। এরপর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তাকে নিয়ে বাংলাদেশে রওনা দেয় বিজিবি কর্মকর্তারা। ফেরত নেয়ার আগে রাজ্জাকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। বিকেল সাড়ে ছয়টার খানিক আগে রাজ্জাককে নিয়ে বিজিবির প্রতিনিধি দল টেকনাফে পৌঁছান।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। অস্ত্র ও গুলিসহ রাজ্জাককে ফেরত দেয়াসহ চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে শান্তি স্থাপন নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

এর আগে গত ১৭ জুন বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালানি সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি চালায় বিজিবি। ওই সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির কয়েকজন সদস্য ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। এক সময়ে টহল দলটি বিজিবি নৌযানের কাছে গিয়ে থামে। বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা জলসীমা ত্যাগ করেনি। উল্টো নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে। এ সময় বিজিবির অন্য সদস্যরা বাধা দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময়ে বিজিবির সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাজ্জাককে তুলে নিয়ে বিজিপি ট্রলারটি মিয়ানমারের মংডুতে চলে যায়। বিজিবির সদস্যদের ধারণা ওই ট্রলারে ইয়াবাসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য ছিল।

এ ঘটনার পর রাজ্জাককে ফেরতে পেতে পাতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবি। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি মিয়ানমারের পক্ষ থেকে। এভাবে নানা জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনা সমালোচনার আটদিন পর বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মংডুতে দুদেশের পতাকা বৈঠকে রাজ্জাককে ফেরত দেয়া হলো।

এর আগে ২২ জুন রাজ্জাককে ফেরত দিতে কঠিন শর্ত জুড়ে দেয় বিজিপি। তাদের দাবি ছিল গত ২৯ মে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে উদ্ধার সাগরভাসা ৭২৭ জনের মধ্যে ৫৫৫ জনই বাংলাদেশি। এদের ফেরত নিলেই বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়া হবে।

মিয়ানমারের এ শর্তে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে অনেকেই মিয়ানমারের সরকার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এ ব্যাপারে কথা উঠে জাতীয় সংসদেও। মিয়ানমারের ওই আচরণকে উদ্ধত্য হিসেবেই দেখতে শুরু করে সবাই। এমন পরিস্থিতির একদিন পর ২৩ জুন কোনো রকম শর্ত ছাড়াই রাজ্জাককে ফেরত দিতে সম্মত হয় বিজিপি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ