• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত

৫ জানুয়ারির নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পায়নি: যুক্তরাষ্ট্র

uniসিসি ডেস্ক: বাংলাদেশে বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিতর্কিত নির্বাচন। ওই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করতে পারেনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আলোচিত-সমালোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এমনই মত তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ওই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে একই সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলেও বলা হয়েছে।

২০১৪ সালের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কখনো কখনো গণমাধ্যম সরকারি চাপের মুখে পড়েছে।

সরকার পরোক্ষভাবে হুমকি-ধমকি এবং হয়রানিরর মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সেন্সর করার চেষ্টা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানবাধিকারের বড় সমস্যাগুলো হলো- বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, অনলাইন ও মিডিয়ার ওপর বিধিনিষেধ, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের অবস্থা নাজুক, শ্রমিক অধিকার।

এতে তুলে ধরা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে র্যা বের হাতে সাত খুনের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এছাড়া বাংলাদেশের অন্য মানবাধিকার সমস্যার মধ্যে রয়েছে- নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন ও অন্যান্য অন্যায়, সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতি, খেয়ালখুশি মত গ্রেপ্তার ও আটক, দুর্বল বিচারিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা, বিচারের আগে দীর্ঘ সময় আটক রাখা।

কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে ও আন্তঃদলীয় সহিংসতা গুরুতর সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।

দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের প্রথম আট মাসে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মোট ১১৩ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, একই বছরের প্রথম নয় মাসে এই সংখ্যা ১৩৬ জন। এর আগের বছর ২০১৩ সালে মোট ১৭৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য ঘটনায় বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বেশিরভাগ সময়েই সরকারের পক্ষ থেকে ‘ক্রসফায়ার’, ‘গানফাইটস’ অথবা ‘এনকাউন্টার কিলিংস’ বলা হয়।

প্রদিবেদনে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের বিষয়ে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দিনদুপুরে র‌্যাবের কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জে অপহরণ এবং সাতজনকে হত্যার ঘটনা ঘটায়। স্থানীয় সরকারদলীয় শক্তির যোগসাজশে ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় কিন্তু বছর শেষেও ওই ঘটনার অনুসন্ধান চলছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তার ইতি ঘটেনি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন ১২৪ জন। আহত হন ৬০৮৭ জন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ বহুদলীয় সংসদীয় গণতান্ত্রিক গঠন ব্যবস্থার একটি রাষ্ট্র। যেখানে কার্যকর এবং প্রতিক্রিয়াশীল সুশীল সমাজ রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ তাদের শাসন ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ওই নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দল সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটায়। ওই সময়ের বিরোধী দল বিএনপি এবং তাদের শরিকরা (জোট) ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে। বিএনপি এবং তার শরিকরা নির্বাচন নিয়ে তাদের দাবি আদায়ের জন্য ধারাবাহিকভাবে সহিংস আন্দোলন করতে থাকে। দিনশেষে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। এতে ওই নির্বাচনে ভোটাররা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ওই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কট করার আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির ন্যূনতম যুক্তিও খুঁজে পাননি।

ওই সময়ে সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রে বা এর আশপাশে ওই নির্বাচনে ১০০ এরও বেশি নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ওই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পঞ্চমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত নির্বাচনে সন্ত্রাস, সহিংসতা, কারচুপি এবং নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা অবাধে ব্যালট পেপারে সিল মারছে এমন ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো বলা হয়, মতপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার এবং শ্রম পরিবেশ নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কয়েকটি দলের সহিংসতা ২০১৪ সালে দেশে ভীষণ ক্ষতির কারণ ঘটায়।

কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইনি বাধা মোকাবিলা করে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য চলছে। অল্প বয়সে এবং জোরপূর্বক বিয়ে সমস্যা রয়েছে। অনেক শিশু কাজ করতে বাধ্য হয়।

গুম সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম ও অপহরণ অব্যাহত ছিল। এর কিছু ঘটনার জন্য দায়ী নিরাপত্তা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। অধিকারের মতে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম হয়েছেন ৩৫ জন। এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪। একই সময়ে আইন ও সালিস কেন্দ্রের হিসাবে গুম হয়েছেন ৮০ জন।

১৫ মে আইন ও সালিস কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ নূর লিটন খানকে অফিস ছেড়ে যাওয়ার সময় অপহরণের চেষ্টা করে একদল মানুষ। র‌্যাবের নির্যাতনের বিষয়ে তিনি ডকুমেন্ট তৈরি করার অভিযোগে এর আগে বাহিনী থেকে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল।

পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের কিছু লোক ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা ওমর ফারুককে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ফারুকের পরিবারের দাবি, তাকে যে ট্রাকে তুলে নেয়া হয়েছে তাতে র‌্যাবের চিহ্ন ছিল। কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাব দুপক্ষই ওমর ফারুক কোথায় সে বিষয়ে জানেন না বলে জানায়। ফারুক নিখোঁজই রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনে স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা আছে। কিন্তু সংবিধানের একটি ধারামতে, নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা রয়ে গেছে নির্বাহী বিভাগের হাতে। সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর ফলে হাইকোর্টের বিচারকদের অভিসংশনের অধিকার সংসদকে দেয়া হয় সেপ্টেম্বরে মাসে। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত এ আইন বাস্তবায়নের লিখিত রূপ দেয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে। ২০১৩ সালে সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়।

এই মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ব্রিফিং করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তারপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টমি মালিনস্কি।

বাংলাদেশি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে টমি মালিনস্কি বলেন, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি অবশ্যই প্রতিবেদনটা পড়বেন। আমি এখন যেটা বলতে পারি তাহলো- ২০১৪ সালের ত্রুটিপূর্ণ নিবাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতি নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছি আমরা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অচলাস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সহিংসতা বন্ধে আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি। এ সহিংসতা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে। নিরপরাধ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।

টমি মালিনস্কি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সংহিংসতা ব্যবহার নিয়ে আমরা অত্যন্ত শক্ত ভাষায় নিন্দা জানিয়েছি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আয়োজনের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বের কথাও বলেছি। আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকিগুলোর প্রতি যথাযথ মাত্রার শক্তি ব্যবহারের কথাও আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি।

উৎসঃ   আরটিএনএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ