• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন |

রেলপথ উন্নয়নে এডিব‘র চার হাজার কোটি টাকা

BRসিসি নিউজ : লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেললাইন নির্মাণে ৫০৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হয় ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এ অর্থে নতুনভাবে ডাবল রেললাইন তৈরির পাশাপাশি বর্তমানে যে লাইন রয়েছে সেটিরও মানোন্নয়ন করা হবে। রোববার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে দুপুর ২টায় এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংস্থাটির চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এবং এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি কাজুহিকো হিগুচি চুক্তিতে সই করেন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়, ইআরডি এবং এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এডিবির এ অর্থ আখাউড়া-লাকসাম ডাবল ট্র্যাক প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেললাইনকে ডাবলে উন্নীত করা হবে। এ অংশের দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার। একইসঙ্গে প্রকল্প এলাকার সিগন্যাল ব্যবস্থারও আধুনিকায়ন করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় আখাউড়া-লাকসাম পর্যন্ত ১১ স্টেশনের আধুনিকায়ন করা হবে। বাড়ানো হবে সক্ষমতা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডাবল লাইন বিশিষ্ট করার অংশ হিসেবে আখাউড়া-লাকসাম অংশের জন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রজেক্ট পেপারে এডিবি বলেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান করিডোর। এ করিডোরের সক্ষমতা বাড়াতে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সহায়তা বাড়াতে সহায়তা করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে এডিবি ঋণ দিচ্ছে ৫০৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ হয় ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা (৮০ টাকা বিনিময় হারে)। এ ছাড়া সহযোগী অর্থায়নকারী হিসেবে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) দিচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (১৭৫ মিলিয়ন মাকিন ডলার)। বাকি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

এ সময় আরো জানানো হয়, এডিবির মোট ঋণের মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এডিএফ) থেকে একেবারেই সহজ শর্তে দিচ্ছে ১০৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। আর অর্ডিনারি রিসোর্স ফান্ড (ওসিআর) থেকে কিছু বেশি সুদে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সহজ শর্তের এ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।

এদিকে একই লক্ষ্যে বর্তমানে আরো দুটি প্রকল্প চলমান আছে।এর একটির আওতায় টঙ্গি থেকে ভৈরব পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেললাইনকে ডাবল করা হচ্ছে। অন্যটির আওতায় চিনকি থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেলপথে আরো একটি লাইন বসানোর কাজ চলছে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার।

আলোচিত প্রকল্প দুটির প্রথমটি বাস্তবায়িত হচ্ছে এডিবির অর্থায়নে, দ্বিতীয়টিতে অর্থায়ন করছে জাইকা। চলতি বছরেই এ দুই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ