সিসি ডেস্ক: ঢাকার পূর্বাচলে নির্মিত হচ্ছে স্থায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে এটি তৈরিতে অনুদান দিচ্ছে চীন সরকার। এর আগে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের খালি জায়গায় এটি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সময় মতো জমি না পাওয়ায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
অবশেষে পূর্বাচলের নিউ টাউন এলাকায় চার নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডে ২০ একর জায়গাজুড়ে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টার নামের স্থায়ী এ বাণিজ্য মেলা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৬ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৮ কোটি ১৮ লাখ এবং চীন সরকারের অনুদান থেকে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান বলেন, ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পণ্য প্রস্তুতকারী ও রফতানিকারকরা তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। ফলে বাণিজ্যের উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ বাড়বে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম স্থাপিত হবে। এতে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদার হবে। এ সব দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১২ সালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম কর্ণারে খালি জায়গায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ছিল ২১০ কোটি টাকা এবং সরকারি সুদমুক্ত ঋণ ও অনুদান ছিল ৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ওপর ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় দুটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলো হলো- বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টার নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি চীনা অনুদান, সরকারি সুদবিহীন ঋণ ও অনুদান এবং ইপিবির নিজস্ব অর্থায়নে জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১২ সালে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, একনেক অনুমোদিত এ প্রকল্পটির জন্য উপযুক্ত জমি যথাসময়ে পাওয়া যায়নি তাই এর নকশা প্রণয়নপূর্বক বাস্তবায়ন কাজ আরম্ভ করা যায়নি। পরবর্তীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে রাজউক পূর্বাচল উপশহরে মোট ২০ একর জমি চূড়ান্ত বরাদ্দ করে। এ জমি বিবেচনায় রেখে বেইজিং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারাল ডিজাইন (বিআইএডি) প্রস্তাবিত সেন্টারের সিসমিক ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়। ডিজাইন চূড়ান্ত করার পূবে বিআইএডি প্রকল্প এলাকায় সমীক্ষা পরিচালনাপূর্বক জানায় যে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ প্রকল্পের ডিজাইনে ভূ-গর্ভস্থ কার পাকিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা অর্থনৈতিক এবং কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হবে না। ফলে বিআইএডি প্রস্তাবিত সেন্টারের সিসমিক ডিজাইন এ ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিং এর পরিবর্তে সারফেসএ ১৫০০টি কার পার্কিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডিজাইন এ প্রস্তাবিত সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় মাতৃকর্ণার ও শিশুদের জন্য একটি বিনোদন কর্ণারের ব্যবস্থা থাকবে। এ সিসমিক ডিজাইন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। ২০ একর জায়গায় সারফেস এ কার পাকিং, ইউটিলিটি সার্ভিস এবং ভূমি উন্নয়ন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করে সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে ২০১৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটির ওপর পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, প্রতিটি ৯ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট ৮০৬টি বুথ সম্বলিত দুটি বড় হল রুম নির্মাণ, ১৫০০ কার পাকিং এর ব্যবস্থাকরণ এবং সম্মেলন কক্ষ, প্রেস সেন্টার, সভাকক্ষ, বাণিজ্য তথ্য কেন্দ্র, অর্ভ্যথনা কেন্দ্র, সার্ভিস রুম, সাব-স্টেশন ইত্যাদিসহ আনুষাঙ্গিক কাজ।
দ্য রিপোর্ট