সিসি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল দু’টি ট্রেনের প্রায় দুই হাজার যাত্রী। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টা ৫মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা (৭১৯) এক্সপ্রেস ট্রেনটি আউটারে সিগন্যাল পেয়ে আখাউড়া রেলস্টেশনের দুই নম্বর লাইনে প্রবেশ করে।
এদিকে, ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা বাল্লা লোকাল (৩৫১) ট্রেনটিও সিগন্যাল পেয়ে বিপরীত দিক থেকে একই লাইনে প্রবেশ করে। এতে দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের উপক্রম হয়। ট্রেন দু’টির মধ্যে মাত্র দেড়শ’ গজ দূরত্ব থাকতে স্টেশনের ইয়ার্ডম্যান ছুটে গিয়ে লাল পতাকা দেখান। এসময় পাহাড়িকা ট্রেনের চালক ব্রেক করে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় দুই ট্রেনের হাজার দুয়েক যাত্রী।
এ ঘটনায় উভয় ট্রেনের চালক ও স্টেশনের কেবিন মাস্টার পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা কেবিন মাস্টার হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাল্লা লোকাল ট্রেনের চালক সিগন্যাল অমান্য করায় দু’টি ট্রেন একই লাইনে চলে আসে।
বিষয়টি অস্বীকার করে বাল্লা লোকাল ট্রেনের চালক আশরাফুল বলেন, কেবিন মাস্টারের ভুলের কারণেই দুর্ঘটনার উপক্রম হয়। আমি আউটারে কন্ট্রোল রুমের সিগন্যাল পেয়ে দুই নম্বর লাইন দিয়ে ট্রেন চালিয়ে নিয়ে আসি। কন্ট্রোল রুমের কাগজপত্র দেখলেই আমার কথার সত্যতা পাওয়া যাবে।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ইয়ার্ডম্যান আইয়ুব আলী জানান, কন্ট্রোল রুমের কম্পিউটারে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিলে কেবিন মাস্টার আমাকে তাড়াতাড়ি আউটারের কাছে গিয়ে ট্রেন থামাতে বলেন।
তখন আমি স্টেশনের শেষ মাথায় গিয়ে লাল কাপড়ের সিগন্যাল দেখালে পাহাড়িকা ট্রনের চালক ট্রেনটি কোনো রকমে থামাতে সক্ষম হন।
পাহড়িকা ট্রেনের চালক রাসেল মিয়া বলেন, হঠাৎ লাল কাপড়ের সিগন্যাল দেখে ব্রেক করে ট্রেনটি প্লাটফরমে ঢোকার আগেই থামিয়ে ফেলি।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার বলেন, স্টেশনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার উপক্রম হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।