• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন |

কোর্ট মার্শালে যাচ্ছে না ঢাবি ছাত্রীর মামলা

146464_1সিসি ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তুষ্টিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার স্বামী মেজর নাজির উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলা কোর্ট মার্শালে পাঠানোর আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এ মামলার নথি কোর্ট মার্শালে বিচারের জন্য পাঠাতে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে দেয়া সেনা সদর দপ্তরের চিঠির কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়েছে। এ মামলার নথি হস্তান্তরের জন্য পাঠানো ওই চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। মামলার কার্যক্রম ও চিঠির কার্যকারিতা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আদালত।

নারী নির্যাতন আইনে করা অভিযোগের বিচার কোর্ট মার্শালে চলতে পারে কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছিলো এ মামলায়। তুষ্টির বাবার করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়। রিটে প্রতিরক্ষা, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এরিয়া কামান্ডার, সেনা প্রধান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনকারী পক্ষে আজ আদালতে শুনানি করেন অনীক আর হক। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সরকার। আদেশের পর অনীক আর হক বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা কোর্ট মার্শালে বিচারের আওতাভুক্ত নয়। কেননা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩ ধারায় বলা হয়ছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক, এ আইনের বিধানই কার্যকর হবে।’

তুষ্টির পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে গত ৩০ মার্চ তুষ্টির শ্বশুরবাড়িতে যৌতুকের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র শিক্ষার্থী তুষ্টিকে বেঁধে নির্মমভাবে পেটান তার স্বামী। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হলে গত ২ এপ্রিল টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করা হয়।

নির্যাতনের সময় মেজর নাজির উদ্দিন চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

জানতে চাইলে তুষ্টির আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় কোর্ট মার্শালে নাজির উদ্দিনের বিচার করার জন্য তুষ্টির পরিবারের করা মামলাটির নথিপত্র চায় সেনা সদরদপ্তর।’

সেনা সদর দপ্তরের এরিয়া কমান্ডার (লজিস্টিকস) মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান গত ১১ মে এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি চিঠি দেন।

সেনাবাহিনীর সে চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তুষ্টির বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। নুরুল হকের যুক্তি, বিশেষ আইনের আওতাভুক্ত কোনো অপরাধের বিচার শুধুমাত্র ওই বিশেষ আইনেই বিচারযোগ্য; তা কোর্ট মার্শালে বিচারের আওতাভুক্ত নয়।

আর এ ধরনের অপরাধের বিচার কোর্ট মার্শাল ল’ এর আওতাভুক্ত নয়। সাধারণ ফৌজদারি আদালতে বিচারযোগ্য মামলা কোর্ট মার্শালে বিচার করা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, ‘তুষ্টিকে নির্যাতনের মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হলে মেজর নাজিরের সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা হতে পারে। আর কোর্ট মার্শালে গেলে তার ১ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।’

আইনজীবী আরো বলেন, ‘যতক্ষণ এই আইনগত প্রশ্নের জটিলতার অবসান না হচ্ছে, ততক্ষণ মামলার কার্যক্রম ও চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত থাকছে।’

উৎসঃ   বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ