• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন |

জয়পুরহাটে হোটেল শ্রমিকের ওপর এ কেমন নিষ্ঠুরতা!

147267_1সিসি ডেস্ক: অন্য হোটেলে কাজ নেয়ায় শারীরিক নির্যাতনের পর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ১২ বছর বয়সী হোটেল শ্রমিকের সাজ্জাদ হোসেনের মাথার চুল ও ভ্রু কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতিরা।

শনিবার রাত ৮টার দিকে এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ হোটেল মালিক আবদুল মতিন এবং হোটেলের কর্মচারী রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে।

নির্যাতনের শিকার শিশু সাজ্জাদ জানায়, মেগা হোটেল অ্যান্ড ও ফাস্ট ফুড নামের একটি হোটেলে আমি আগে কাজ করতাম। কয়েক দিন আগে ওই হোটেলের কাজ ছেড়ে দিই। পরে আমি অন্য একটি হোটেলে কাজ নিই।

সে বলে, এতে ক্ষিপ্ত মেগা হোটেল অ্যান্ড ও ফাস্ট ফুডের মালিক আবদুল মতিন এবং রুবেল নামে হোটেলটির এক কর্মচারী আমাকে মারধর করে চুল ও ভ্রু কেটে দিয়েছেন।

রাত ৯টায় আক্কেলপুর থানায় গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার শিশু সাজ্জাদ ও তার দাদি থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন।

সাজ্জাদ ওসিকে জানায়, আমি আগে মেগা হোটেল অ্যান্ড ফাস্ট ফুডে প্লেট ধোয়ার কাজ করতাম। পরে ওই হোটেল ছেড়ে খোকনের হোটেলে কাজ নেয়। আজ রাত ৮টার দিকে আমি হোটেলে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। ওই সময় হোটেল মালিক মতিন তাকে ধরে হোটেলের ভেতরে নিয়ে যায়।

সে আরো জানায়, পরে আবদুল মতিন আমার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস আটকায় ধরে। আর হোটেলের কর্মচারী রুবেল আমার ভ্রু কেটে দেয়।

সাজ্জাদ বলে, ভ্রু কাটা শেষে রুবেল আমাকে পাশের সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথার চুলও কেটে দেয়। আমি বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি জানাই। ঘটনা শুনে এলাকার লোকজন হোটেলে হামলার চেষ্টা করে।

তবে মেগা হোটেল অ্যান্ড ফাস্ট ফুড দোকানের মালিক অভিযুক্ত আবদুল মতিন বলেছেন, আমি সাজ্জাদের ভ্রু ও চুল কাটেননি, সে নিজ ইচ্ছায়ই কেটেছে। অপর অভিযুক্ত রুবেলও একই দাবি করেছে।

তবে সাজ্জাদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া কেউ ইচ্ছা করে এরকম কাণ্ড করবে না স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়।

অপর দিকে শিশু সাজ্জাদের দাদী লালভানু জানান, শুধু এবারই নয়, এর আগেও হোটেল মালিক আবদুল মতিন একাধিকবার সাজ্জাদকে মারধর করেছেন। গরীব হওয়ায় আমরা তাকে কিছু বলিনি। তবে এবার যা করছে, তা কোনো মানুষ করতে পারে না। এটা কোনো হায়নার কাজ।

এসময় নির্যাতনের শিকার শিশু সাজ্জাদের দাদী এই নিষ্ঠুরতা কঠিন সাজা দাবি করেন।

আক্কেলপুর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, শিশু সাজ্জাদের ভ্রু ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে হোটেল মালিক ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাজ্জাদ একটি হোটেলে কাজ করে। সে বুদ্ধিমান ইচ্ছা করে এমনটা করার কথা না। মামলা হয়েছে। এরপরও আমরা ভালোভাবে খতিয়ে দেখছি।

উৎসঃ   অনলাইন বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ