• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন |

দিনাজপুর অঞ্চলে ভাদর কাটানি উৎসব শুরু

গরুর গাড়িমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : আজ ১লা ভাদ্র। ভাদ্র মাসে শুরু হওয়ার সাথে সাথে দিনাজপুর জেলায় শুরু হয় ভাদ্র কাটানি উৎসব। নববধূরা পিতার বাড়ি নাইয়োরে যেতে শুরু করেছে। বাঙ্গালি সমাজে বিশ্বাস করে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ স্বামীর মুখ দেখলে স্বামীর অমঙ্গল। তাই স্বামীর মঙ্গল কামনায় নববধূরা ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ স্বামীর মুখ দেখে না।
শুধু পল্লী গ্রামেই নয়, শহরেও এমন প্রথা অনাদি কাল থেকে বাঙ্গালি সমাজে চালু রয়েছে। এই ভাদ্র বা ভাদর কাটানির কোন যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা নেই বাঙ্গালি সামজে। শুধু যুগ যুগ ধরে এই প্রথা চালু রয়েছে তাই অনেকেই মেনে চলে।
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এবং ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিনাজপুর মালদহ, মুর্শিদাবাদের কোন কোন অংশে এই প্রথা চালু আছে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি জেলার কোন কোন অংশ এই প্রথা বাঙ্গালী সমাজে চালু রয়েছে বলে জানা যায়।
আধুনিক যুগে ভাদর কাটানির পক্ষে নিরপেক্ষ তর্ক-যুক্তি নেই। তবুও ভাদর কাটানি উৎসব থেমে নেই। যারা মনে প্রাণে বাঙ্গালি যারা বাঙ্গালির রীতিনীতি ও প্রথা মেনে চলে এবং মানার চেষ্টা করেন তাদের নিয়মের ভিতরেই রয়েছে ভাদর কাটানি প্রথা।
বাঙ্গালি সমাজে এখন ভাদর কাটানিটা একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। বৌকে বিদায় দিতে হবে কিংবা কনের বাড়ির লোকজন দলবেঁধে কন্যাকে নিতে আসবে। এই নিয়ে বাড়িতে মহা ধুমধাম। নতুন  নতুন জামা কাপড় আর রকমারি খাবারের আয়োজন করা হয়। বরের বাড়ির লোকজন অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত। আমাদের সমাজে অতিথি আপ্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এই অতিথি আপ্যায়ন বাঙ্গালি সমাজ থেকে এতটুকুও কমে যায়নি।
বাড়িতে অতিথি আসলে বাড়ির লোকজনরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রথমে হাত মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা, গামছা তোয়ালের ব্যবস্থা তারপর খড়ম স্যান্ডেল ধুতি, লুঙ্গির ব্যবস্থা যেন পরিপূর্ণ করা হয়। তারপরে খাওয়ার জন্য ছাগল মুরগি, ডিম, দুধ, কলা, দই, চিড়া, মুড়ি, পায়েশ, পুলি, পিঠা, আয়োজনের মধ্যে সবই থাকে বাঙ্গালী সমাজে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষ হলে নববধূরা আবারো স্বামীর বাড়ীতে ফিরে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ