• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন |

মালা

mala।। রেজা নুর।।

‘এই, দেকিস দিনি, ইমরান ভাই আমারে নেয় কি-না?’
পুকুরঘাটের শেষ সিঁড়িতে কাপড় কাচা থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো, শারমিন। পা পরের ধাপে না দিয়ে একরকম এক-পায়েই দাঁড়িয়ে তাকালো কবীর। শারমিন শান্ত চোখে দেখছে। হাতের কবজিদুটো চেপে আছে থেতলানো কাপড়ের স্তুপ। সাদা ফেনায় ফর্সা হাত শুভ্র হয়ে উঠেছে আরও। এখনও বেশ সকাল। রোদ উঠে এইমাত্র অভ্যস্ত হয়েছে। পুকুরপাড়ের ছায়ারা এখনও নড়তে চাইছে না গাছতলা থেকে। কবীর এই সময় গোসলে আসে। বাড়ি থেকে মাইল দশেক সাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন যেতে হয় চাকরিতে। আকিজ বিড়ির ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার। আইএ পাশ করার পর আর পড়া হলো না। প্রথমে খারাপ লাগতো। মাসের শেষে হাতে মাইনে আসতে আসতে বইয়ের পাতার চাইতে কড়কড়ে নোটের ঘ্রাণই প্রিয় এখন।

বেলা চড়লে আরও লোকের ভিড় হবে তখন আর কথাটা এগোবে না তাই জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে শারমিন। পিছল শানের ইটে পায়ের নখ আঁকড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবল কবীর। গ্রাম-সম্পর্কের বড়বোন হয়। সেই ছোট্ট বেলা থেকে খুব স্নেহ করে ওকে। স্কুলের সবাই শারমিন ডাকলেও ও বলতে পারতো না। তাই, বলতো, সরু। এই নাম ধরেও ডাকে গ্রামের কেউ কেউ। পানির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একন চ্যান কইরে নি, সরু বু। বিকেলে আমাগের বাড়ি আসপা, কতা বলবানে।’
‘ক্যান্, ঘটক হবার দাম দেকাচ্চিস? তোর যা কলাম,তাই জিগগেশ করবি। এই জন্যি আবার যাইয়ে কতা কতি হবে ক্যান্? যা, লাগবে না তোর ঘটকালি।’
‘রাগ কইরে না বু। বলবানে আমি।’
ঝপ করে শব্দ হলো পানিতে। দুচারটে ডুব দিয়ে ভিজে কাপড়ে সিঁড়ির একেবারে উপরে উঠে কাপড় বদলালো। ফাঁকে ফাঁকে নতুন করে দেখতে লাগলো শারমিনকে। তারপর চপ্পলে পট পট শব্দ তুলে বাড়ির দিকে গেলো। যাবার পথে ইমরান মাস্টারের বাড়িতে উঁকি দিলো।

‘ইমরান ভাই, বাড়ি আচেন?’
জানালার একটা কপাট মেলে গেলো। প্রায়ান্ধকার শিকের ওপরে কপাল এনে ঝুঁকে তাকাল ইমরান।
‘কে?’
‘আমি, ভাই। ব্যস্ত আচেন নাকি?’
‘ও তুই? না তেমন না। হাতের লেখার খাতা দেখছিলাম। ভেতরে আয়।’
‘আইজ আর আসতিচি নে। একটু তাড়াতাড়ি যাওয়া লাগবে অফিসি। কতা আচে। বিকেলে আসপানে। না হলি সইন্দে বেলা।’

ইমরান হাসলো মনে মনে। ছেলেটা কখনও কাজে যাচ্ছি এমন বলে না। বলে, অফিসে যাচ্ছি। চাকুরির প্রতি এমন নিবিষ্টতা দেখে ভাল লাগে। খালাসীপাড়ার ছেলে ও। গ্রামের অন্যান্যদের চাইতে নিজেদেরকে বনেদী ভাবলেও তাদের আগের বিত্ত-বৈভব আর নেই। বড় চাচা পোস্ট মাস্টার। তাঁর বাড়ির পাশেই ওদের টিনের ঘর। ওর বাবা সাদেক খালাসী স্কুলের দপ্তরি। স্কুলটার সামনে দিয়ে কপোতাক্ষ কোমর বেঁকিয়ে চলে গেছে ঝিকরগাছার দিকে। ক্লাস শেষের ঘন্টা বাজানোর জন্য বারান্দায় এসে জল দেখে উদাস দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তুলে ধরা কাঁসার চাকতি আর হাতুড়ির ফাঁকে সরুজল বয়। ছুটির পরে বিকেলে ছিপ নিয়ে বের হয়। খালাসীপাড়ার ঘাটে ছোট্ট ডিঙি বাঁধা থাকে। বড় ভাইয়ের বাড়ি সংলগ্ন পোস্ট-অফিস ঘর পেরিয়ে ঢালুতে বালুময় পথে নেমে আসে। ছেলেবেলায় বাবার সাথে যেত। ডিঙিটা ছোট হলেও ওরা অনায়াসে এঁটে যেত ভেতরে। বালিশের মতো তুলোভরা পুরু কাপড়ের ওপরে বসে বাবার ছিপফেলা দেখত। শোলার ফাতনা চুপচাপ জলে দোলে। পাপড়ের মতো রোদ উড়িয়ে নিয়ে যায় ভেজা হাওয়া। মাথার ফুল দুলিয়ে দূরে চলে যায় শেওলার দল। র্স র্স করে ব্যাঙাচি সাঁতরায়। ফাতনা নড়ে ওঠে। বাবা বলে, ‘মাছ এইবার হবে।’ কবীর চোখ বড় করে শোলার দিকে তাকায়। এই বুঝি বড়শিতে টান পড়ল। কিছুক্ষণ দুলে জল স্থির হয়। ওইপারের পুব দিগন্ত কালো হয়ে ওঠে। গাছপালা দীর্ঘ প্রলম্ব ছায়া ফেলে। ‘আইজ আর মাছ হবে না। চল বাড়ি যাই’। মাছ কোনও কোনও দিন হতো। বড় রুই থেকে নিয়ে পুঁটিমাছও। এতে বাবার মাছ ধরবার আনন্দে তেমন ভাবান্তর দেখা যেত না। বলতেন, মাছ না হোক, গাঙের হাওয়া দেকিচিস? কী সুন্দুর পানি বইয়ে যায়। মাছ না পালিউ ইডা দেকেই শান্তি।’ বাবার স্বল্প বেতন আর অনেক ভাইবোনের সংসারে অভাব থাকলেও শান্তি সত্যিই ছিল। কিন্তু বাবাকে কখনও মন খারাপ করতে দেখেনি। রান্নাবাড়ার পরে আঁচলে ঘাম মুছে মা-বাবা পান খেতে খেতে গল্প করতেন হাসিমুখে। ঘর-বারান্দায় ওদের পড়বার আওয়াজে মাঝে মাঝে তাকিয়ে দু’জনই লালঠোঁটে হাসতেন। ওর স্কুল পাশের পরেই বাবা অবসর নিলেন। কোনওমতো কলেজটা পার হলো কবীর। হাল ধরলো সংসারের।

দুই
–
ছেলের বউ না দেখতে পেরে ইমরানের মায়ের কষ্টের সীমা নেই। মেয়ে দুটোর বিয়ে দেবার পর শূন্যতা ভর করে আছে বেশি। বেড়াতে এলে মেয়েরা ভায়ের আড়ালে আবডালে খাসখুস করে। সামনে কিছু বলতে সাহস পায় না। চুপচাপ, নিজের ভেতরে থাকা বড় ভাইকে দু’বোন অনেকটা দূর থেকে দেখে এসেছে। ভাইবোন সূলভ হৃদ্যতা-স্নেহ-ভালবাসা, হাসি ঠাট্টা যে হয়নি, হয় না, তা না। কিন্তু এই বিষয়টা কেউ পাড়ে না। বাবাকে বললে, দূরের অস্পষ্ট কোনও শব্দের গুঞ্জনের মানে বের করবার মতো কান খাড়া করে থাকেন। সবাই একরকম ইমরানের সুমতি উদয়ের অপেক্ষায়।

বিএ পাশ করে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করছে। পাশের গ্রামে। এম এ করেনি গ্রাম ছেড়ে থাকতে হবে বলে। উচ্চ ডিগ্রীর প্রতি অনাগ্রহ হলেও জ্ঞান-উৎকর্ষ সাধনের সাধনায় নিরন্তর। শোবার ঘরের চারদিকের দেয়ালে বই। বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে বই নিয়ে বিছানায় গড়ায়। কোনও কোনও দিন মা আলতো পায়ে গিয়ে বুকের ওপর থেকে বই সরিয়ে তাকে রাখেন। ঘুমের ভেতর পাশ ফিরে শোয়। বিকেলে হাইস্কুল মাঠের দিকে যায়।

কবীরের কাছে সবসময় কোনও না কোনও খবর থাকে। সেগুলো খুব গুরুতর। আজ আকাশে মেঘ বেশি কালো, বৃষ্টি এসেই যেতে পারে—এই জাতীয় সম্ভাবনার কথা বলার সময় ওর নেই। দ্রুত পায়ে হাঁটে। ‘কতা আচে’ বলতে কী রকম কথা হতে পারে! ইমরানের মন্থর চলা থেমে থেমে আসছে। পথটা টেনে আরও প্রলম্ব করে দিয়েছে কেউ। প্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে না। রঘুনাথ নগর হাই স্কুল বাঁয়ে রেখে রাস্তাটা পাড় থেকে হঠাৎ নিচু হয়ে বালুর ঘাটে গিয়ে মিশেছে। ধু ধু চরের মতো বুক চিতিয়ে আছে বালুর স্তর। ঘাট থেকে একটু দূরে পাখিদের নিয়ে সভা করে শতাব্দী-প্রাচীন বটগাছটা। একটি ডাল বেড়ে এসে জলের ওপর ছায়া ফেলে আছে। ঝুরি নামিয়ে নামিয়ে বডি-বিল্ডারের মতো করেছে শরীর। নৌকো থেকে তাকালে যাত্রীদের কাছে মনে এক অতি বলবান প্রহরী দাঁড়ানো গাঙ পাহারায়। পুরু শেকড়ের ওপরে বসল ইমরান। তলায় বেশকিছু বটফল পড়ে আছে। বিকেলের আলোর আভায় ও-গুলোকে স্বর্ণ-চূর্ণের মতো লাগছে। টুপ করে একটা বটফল মাথায় পড়লো। ছিটকে ঠিক সামনের মাটিতে গিয়ে থামল।

ঘাটে ছায়া ছায়া লোক নড়ছে। কেউ দাঁড়ানো, কেউ পানিতে নেমে বুক পর্যন্ত ডুবে। ওইপারে তারার ফুটকির মতো গরু চরছে। বটতলার ভেজা মাটির ওপরে অস্ফুট পায়ের শব্দে তাকাল ইমরান। মুচকি হেসে পাশে বসল কবীর। চোখাচোখি করে নীরবে বসে রইল দুজন। গাঙের বিপরীত বাঁকের মাঝখানে ওরা। দুদিকে তাকালে মনে হয়, দুটো নদ ফিরে চলে যাচ্ছে দুই দিকে। তবু ঢেউয়ের মিলনে মানা নেই।

‘সরু বু’র সাতে দেকা হইলো আইজ।’
ভারী শ্বাসে ফিরে তাকাল কবীর। দ্রুত ওঠানামা করছে ইমরানের বুক।
‘কিছু একটা কন, ভাই।’
‘কী বলবো? তোরই তো বলার কথা।’
‘কথা তেমন কিছু না, আপনার কথা জানতি চাইছিল।’

ইমরান হাসল। ছেলেটা বদলেছে। শারমিন জানতে চাইতে পারে কিন্তু আরও কথা আছে, ও বলছে না।
‘আসল কথা বল্, কবীর।’
‘আপনি বিয়ে-শাদী করবেন, না-কি একা একা এইভাবে উদাস ঘুইরে বেড়াবেন, তাই জানতি চাইছিল’।
‘হাহাহা, তাই নাকি?’
‘হুম’।
‘মাধ্যম দিয়ে কথা বলার অভ্যাস এখনও রয়েছে?’
‘জ্বী?’
‘কিছু না। চল্ উঠি।’
‘চলেন যাই।’
তিন
–
নিয়ম-মতো সূর্য ডুবলেও সন্ধ্যাগুলো সবসময় একরকম হয় না। খুব ঘন করে আসে কখনও আঁধার। তারার দল অন্ধকার ছেনে আলো ছুঁড়ে দেয় একে অপরের গায়। আজ তেমন। বেশ আগের এক সন্ধ্যা ছবি হয়ে দাঁড়ায়। একুশে ফেব্রুয়ারির রাতে স্কুলে কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতসন্ধ্যা ছিল। সেই রাতের ঝংকার নিয়ে ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ইমরান।

বাবা বাড়ি এসে নি:শব্দে শুয়ে পড়েন। মায়ের হাতের কাজের টুংটাং ঠক্ ঠক্ আওয়াজ পাওয়া যায়। কোনও কোনও দিন মা যখন বারান্দায় পা মেলে পান চিবোতে চিবোতে উঠোনের অন্ধকার দেখেন, কিংবা পূর্ণিমায় পাতায় পাতায় আলোর ঝালর দেখতে দেখতে হাই তোলেন, ইমরান পাশে এসে বসে। গল্প হয়। শৈশবের। ভাইবোনের সংগে খেলায়, রাগে অভিমানে বেলা অবেলায় কেমন মুখর হয়ে থাকতো এই অংগন, সেইসব কথা বলেন। দীর্ঘশ্বাসের সাথে জড়ানো স্বর ভেসে যায় বাতাসে, —‘বউ আসলি এই ঘর মাইয়ের পায়ের শব্দ পেইতো খোকা।’ দপ করে নিভে যায় ইমরান। মুখ তুলে নিশ্চুপ অশ্রুবিন্দু ঝরে যেতে দেয়। ভাগ্যিস রাতের বেলা অশ্রু তারা হয়ে জ্বলতে পারে না।

আজ চুপচাপ খেয়ে ঘরের দিকে পা বাড়িয়েছিল। মা মুখের দিকে কয়েকবার তাকিয়ে ছিলেন। কিছু বলতে চাইছিলেন হয়ত। নির্বাক শব্দ ছাড়া ইমরানের মনে এখন আর কোনও সাড়া নেই। ঘরের পাশের বড় খোলা বারান্দার রেলিঙে দু’হাতের কনুই ঠেকিয়ে ঝুঁকে দাঁড়াল। বহুদিনের ইটের বাড়ির জীর্ণ অবয়ব অন্ধকারে সুদূর ইতিহাসের মতো মৌন। পলেস্তারার ওপর সাদা সাদা চুনের প্রলেপ আলো-পোকার মতো উড়ে যেতে চাইছে। বেলগাছের ফাঁকে দৃষ্টি দিল। হালকা হাওয়ায় পাতা দুলছে। অর্ধেক চাঁদ কোনোমতে ঝুলে আছে আকাশে। মিনমিনে আলো দেখে হাসছে তারারা। পাতারা হেলে হেলে আলো উস্কে দিচ্ছে। পড়ো পড়ো চাঁদের চোখে কত যে স্মৃতির আলপনা! আজ আবার সেই নাম কেন আসে শ্রবনে, মননে? স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোয় গান গাইত শারমিন। স্বর না উচ্চকিত হলেও সরুর সারা শরীরে সংগীত। ওর গলা আর চলার ঝংকার সইবার ক্ষমতা হতো না। অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় নাম বলতো যখন, শারমিন পেছনের কামরা থেকে ঝুম্ করে এসে বসত হারমোনিয়ামের পাশে। নিজে বাজাতে জানত না। বিধান চন্দ্র রায়, গানের শিক্ষক সুর তুলতেন। একটু পরে গলা মেলাত ও । একুশে ফেব্রুয়ারির রাত সেদিন। ভেজা বাতাসে হিম ঝরছে। হারমোনিয়াম তবলা আর বাঁশির ঝংকারে উষ্ণ হয়ে উঠছে শ্রোতারা। বাজনা বাতাসের ঢালে নামলে সুর তুলল সরু:

“তুমি যে গিয়াছ, বকুলও বিছানো পথে,
নিয়ে গেছো হায় একটি কুসুম আমারও কবরী হতে।
তুমি যে গিয়াছ বকুলও বিছানো পথে।

নিয়ে গেছো হিয়া কি নামে ডাকিয়া নয়নে নয়নও দিয়া
নিয়ে গেছো হিয়া কি নামে ডাকিয়া নয়নে নয়নও দিয়া
আমি যেন হায় ফেলে যাওয়া মালা, কূলহারা নদী তটে।
তুমি যে গিয়াছ বকুলও বিছানো পথে।

খেলাঘরে কবে ধুলিরও খেলায় দুটি হিয়া ছিল বাঁধা
আমার বীণাটি তোমার বাঁশিটি একসুরে ছিল সাধা
আমার বীণাটি তোমার বাঁশিটি একসুরে ছিল সাধা

সে খেলা ফুরিলো সে সুর মিলালো নিভিল কণক আলো
দিয়ে গেছ মোরে শত পরাজয়
ফিরে এসো জয়রথে।
তুমি যে গিয়াছ বকুলও বিছানো পথে
নিয়ে গেছ হায় একটি কুসুম আমারও কবরী হতে।
তুমি যে গিয়াছ… ”

ইমরান মাক্রোফোনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। চাদর জড়ানো সরুর গা সুরে দুলে দুলে উঠছে, দেখছে। শীতে আর সুরের আবেশে কি এক অভাবনীয় প্রকম্পন! বিধান বাবুর আঙুলের ওপরে যেন লাল পিঁপড়ের দৌঁড়। সেগুলো ঝরিয়ে দেবার জন্য অবিরল রীডে নখ ডুবিয়ে যাচ্ছেন। বাঁ হাত দ্রুত ওঠানামা করছে। হারমোনিয়ামটা সামনের ছিদ্রমুখ দিয়ে বাতাস বুকে ভরে নিয়ে নানা স্কেলে বেজে চলেছে। গাইতে গাইতে একটু ঝুঁকে যাচ্ছে সরু। বিশেষ করে অন্তরাগুলোতে। মানবী আর যন্ত্রের স্বর একাকার এখন। মাঠজুড়ে নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার ভেতর মেঘের নিচের ছায়াজলের মতো আর্দ্র হৃদয়ে তোলপাড়। কখন বিন্দুজল হয়ে ঝরে, এই ভয়ে সরুর দিকে সেদিন আর তাকায়নি।
চার
–
ভাষা দিবস শেষ না হতেই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি শুরু হয়। একটি মাস ক্লাস তেমন হয় না। ইমরানের কলেজও চলে ঢিমে তালে। প্রায়ই স্কুলের প্রোগামের তোড়জোড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে স্যারদের কাছে তার আদর আগের মতোই। মাঝে মাঝে কোনও শিক্ষক পাশের খালি চেয়ারে দুপা তুলে বলেন, ‘যা ইমরান, টেনের বাংলা ক্লাসটা আজ তুইই নিয়ে আয়’।

ক্লাসে ঢুকে টেবিলে চক-ডাস্টার রাখতে রাখতে সামনে তাকায়। ছাত্র-ছাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। মুখে হাসি মাখিয়ে লজ্জিত হাতে বসবার ইঙ্গিত করে। বসতে গিয়ে হাতের খোঁচায় বই পড়ে যায় শারমিনের। শব্দে চোখ চলে যায় সেদিকে। ইমরানের চোখে ক্ষণিক চোখ রেখে নিচে হয়ে বই তোলে। ওড়নার অর্ধেক ঘোমটার আড়াল পেরিয়ে একঝাঁক কালোচুল ঝুলে ঢেউ খেলে থাকে শূন্যে। ঝামটায় চিবুকের চুল সরিয়ে আবার তাকায় শারমিন। চোখ সরিয়ে নেয় ইমরান। আজ কোনটা পড়া জানতে চেয়ে একটা বই চেয়ে নিয়ে পাতা উল্টায়। পংক্তি ভেঙে ভেঙে কবিতার অর্থ বলে চলে। বোর্ডে দুএকটি শব্দ লিখে গূঢ় অর্থ বুঝিয়ে দেয়। ঘন্টা পড়লে বই ফেরত দিয়ে বের হয়ে আসে। গুঞ্জনের ভেতর থেকে কয়েকটি স্বরের হাসি মিলিয়ে যায় পেছন থেকে।

ছুটি হলো। শীতবিকেলের স্বল্প আলোয় স্কুল প্রাঙ্গণে পটপট করে ফুটছে পায়ের শব্দ। কিছু পদরেখা গিয়ে পড়ছে মাটির পথে। পশ্চিমের লালাভ আলোর ঝাঝরির আলপনা ধুলোর ওপরে। সেই আলোমাখা ধুলোয় পা ফেলে ফেলে চপ্পলে ছন্দ তুলে হাঁটছে শারমিন আর বান্ধবীরা। টিচার্স রুমের সামনে দাঁড়িয়ে সবার বাড়ি যাওয়া দেখছে ইমরান। প্রায় মিলিয়ে আসা পদ্মস্রোতের ভেতর থেকে একটি মুখ ফিরে তাকাল কি?

খুব তাড়াতাড়ি শীত ফিরে যাচ্ছে মনে হয়। সন্ধ্যার আভাস এলেও ভেজা বাতাসে হিম নেই। স্কুলের সামনে ঘাসে রোদ নাকি জোছনা বিছানো বোঝা যায় না। সেই রোদ-জোছনায় পা ফেলে রাস্তায় নামলো। অল্প দূরে বাড়ি। এই পথ কখনও ঘাসে ঢাকা কখনও দুপাশের গাছের ছায়ায় জড়ানো। সামনে বাঁক নিয়ে বাঁশঝাড়টার পরে পুকুর পেরিয়ে আরেকটু গেলেই বাড়ির প্রাচীর চোখে পড়ে। পুকুরের পরেই দুমুখো সাপের মতো মাথা চিরে রাস্তার একাংশ চলে গিয়েছে শারমিনদের বাড়ির দিকে। এই জায়গায় এসে খানিক দাঁড়ায়। বাঁশঝাড়ের ছায়ায় পুকুরের জল সুবজ হয়ে থাকে। সারবাঁধা কাকলে মাছ কিংবা ব্যাঙাচি সাঁতরায়। তরল সবুজের ঢেউ পাড়ের কাদায় এসে দোলে। জলের দিকে তাকিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে পড়ে। সন্ধেটা এইখানে এসে আগে থেকেই বসে আছে যেন। দূরে এখনও পশ্চিমে মিলিয়ে যাওয়া আলো সন্ধ্যামণিকে রেখে আলগোছে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ হাসির শব্দে ফিরে তাকাল। নিক্কনের মতো হাসি। শারমিন আর খুকু পুকুরপাড়ের কদমগাছটার আড়ালে বসে আছে। পাশে বইপত্র রাখা। পা ছড়িয়ে আয়েসী ভঙ্গিতে গল্প করছে আর হেসে হেসে এইদিকে তাকাচ্ছে। চোখ ফিরিয়ে পা বাড়াতেই ডাক এলো:
‘চলে যাচ্ছেন যে! একটু দাঁড়ান, ইমরান ভাই।’ উঠতে উঠতে খুকু বলল।
‘কেন, কিছু বলবে ?’
‘আমি বলবো না, একজনের একটা জিনিস দেবো।’
খুকু দ্রুত পায়ে এসে হাতে গুঁজে দিলো কিছু। আবার দপদপ করে শারমিনের পাশে গিয়ে বসল। জিনিসটা আলতো করে ধরে বিস্ময়ে তাকালো ওদের দিকে।
‘শক্ত মুঠোয় ধরেন, ইমরান ভাই, মূল্যবান জিনিস, পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। হিহিহি। চল সরু। আমার কাজ শেষ। এখন বকশিস দিবি।’

বকুলের শুকনো মালা। বেশ মোটা, দ-াকার। চোখের কাছে এনে দেখতে গিয়ে ঝুরঝুর করে দুএকটি ফুল পড়ে গেল মাটিতে। মালার কু-লী খুলতেই সাদাটে কাগজ উঁকি দিলো। পেছনে একটি সাইকেলের বেলে ফিরে তাকিয়ে মালাটা পকেটে রাখলো।
পাঁচ
–
বেশ আগের এই লেখা। বকুলগুলো তখন কেবল ঝরেছে তলায়। আমার প্রতিদিনের আকাক্সক্ষার মতো ধুলোয় লুটানো ছিল। কুড়িয়ে এনে জোড়া দিতে চেয়েছি। তোমার সাথে তেমন করে কোনওদিন কথা হবার সুযোগ হয় নি। দূর থেকে জোছনা দেখবার মতো তোমার চোখের আলোয় স্নাত হয়েছি শুধু। সেই আভায় আমার বিভা কতটুকু জানি না। তবে চোখের ভাষা বুঝি।

কথা বাড়িয়ে কী হবে? একটুকু জানিও। তোমার একটুখানি শব্দের ঝংকারে সারাজীবন কান পেতে কাটাতে পারবো।

ইতি
আমি

নাম লেখেনি সরু। তবু কার লেখা বুঝতে পারলো। ভাবলো, সবে তো স্কুল ফাইনাল দেবে। আরও দিন যাক। তখন না হয় বলা যাবে কথা। ঘ্রাণ নিয়ে চিঠি রেখে দিলো ড্রয়ারে।

পনের দিন পরের কথা। কলেজে যাবার জন্য গেটের বাইরে এসে সাইকেলে উঠতে যাবে এমন সময় দ্যাখে কবীর দাঁড়িয়ে আছে। থমথমে মুখ। সিটের ওপরে হাত রেখে হ্যান্ডেল মুড়ে দাঁড়াল। কবির এগিয়ে এলো।
‘আজ সরু বু’র বিয়ে। কাইন্দে ভাসায় দেচ্চে বাড়িঘর। কিছু এটটা করেন।’
হঠাৎ শক্তমুখে ঢোক গিলে ইমরান বলে, ‘আমি কিছু একটা করবো মানে?’
‘সব জানি ইমরান ভাই। আপনি চুপ কইরে থাকপেন না। ওর মামু সম্বন্ধ নিয়ে আইয়েচে, বু’র বাপ আর দেরি করবে না। কচ্চে, টেন পাশ কইরেচে, আর পইড়ে কি হবে। পাত্র ভাল পাওয়া গেচে, বিয়ে আজই।’
‘তুই বাড়ি যা কবীর। আমার ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

কবীর দু:খিত চোখে তাকিয়ে পেছন ফিরে পা বাড়ালো। সাইকেল ঠেলে চলেছে ইমরান। চড়তে মন চাইছে না। সাইকেলের চাকায় পথের ধুলো দুভাগ হওয়া দেখছে। চাকার দাগ সাপের মতো এঁেকবেঁকে চলছে। সবকিছুতেই দেরি হয়ে গেল আজ।

শারমিনের বিয়ে হয়েছে বছর তিনেক। এই সময়গুলোতে কোনওদিন আর ইমরান কদমগাছটার দিকে তাকিয়ে দেখেনি। প্রতিদিন সন্ধে হয়ে আসা আলোয় বারান্দায় দাঁড়িয়ে বকুল জড়ানো চিঠি মুঠিতে ধরে রেলিঙে ঠেস দিয়ে সূর্যাস্ত দেখেছে। সরু কবে শ্বশুরবাড়ি যায়, কবে আসে জানে না। এক নিষ্প্রাণ অথচ ক্ষয়িষ্ণু অপরাধবোধে আড়ষ্ট হয়ে থাকে। বার বার ধ্বনিত হয়, ‘কাইন্দে ভাসায় দেচ্চে বাড়িঘর’।

একদিন দুপুরে কান্নার রোলে মা ও বেড়াতে আসা দুবোনকে বিচলিত দেখে জানতে চাইল, কি হয়েছে? কান্নার শব্দ আসছে?’
‘শারমিনরে বাড়ি আইনেচে। ওর বরডা এক্সিডেন কইরে মইরে গেচে কয়দিন আগে। আমরা যাচ্ছি উগের বাড়ি। তুই যাবি?’
‘তোমরা যাও মা।’ কথাগুলোর প্রান্ত বেয়ে চোখে জল এলো। কান্না লুকোতে নিজের ঘরে গেল। দুইকানে উষ্ণ বাতাসের শাঁ শাঁ শব্দের ভেতর দ্রুত পায়ের শব্দগুলো মিলিয়ে গেলো।
ছয়
–
বাপের বাড়ি ফিরে আসার পর খুকু প্রতিদিনই এসে সইর পাশে বসেছে। বুঝ দিয়েছে। নতুন করে পড়ালেখা শুরু করে নতুনভাবে জীবন গড়ে তুলবার প্রেরণা দিয়েছে। বলেছে, এই আমার দিকে দেখ, অনার্স পড়ছি। বিয়ে তো করিনি। আমার মর্জিমতো করবো। আব্বা-মা কোনওদিন জোর করে না। তা আমার চেয়ে তোকে দেখতে মনে হয় পাঁচ বছরের ছোটো।’ কষ্টের মধ্যে হেসে ফেলে শারমিন। বলে, ‘না রে খুকু। পড়া আর হবে না।’ ‘তাহলে হবে টা কি, বল্ হবে টা কি? নাকি মালা আরেকটা গাঁথবি। ইমরান ভাই এখনও কিন্তু উড়– উড়–ই আছে। বাসা বাঁধেনি। হাহাহা।’
‘যাহ ! তোর যা কথা। কাঁটা ঘায়ে নিন দিস ক্যান্’?
‘নুন নারে মধু দিচ্ছি, মধু। তুই বললি আমি এইবার চিঠি চালবো না, নিজে কথা বলবো।’
‘পড়তে পারি এক শর্তে।’
‘কি কি কি? তাড়াতাড়ি বল্।’
‘ও যদি আমার পাশে দাঁড়ায়, শুধু তাহলেই আমি সোজা হয়ে উঠতে পারি। তোরা যা বলিস তাই শুনতে পারি। ও ছাড়া আমার পৃথিবীর রঙ ধূসর।’
‘এতদিন ঘর করলি কি করে তবে?’
‘ও তুই এখনও বুঝবি না, খুকু।’
‘উহ, এত বুঝে গেছিস এই কয় দিনে?’
‘সত্যি তাইরে, একদিনেই মানুষ শতায়ূ হয়ে উঠতে পারে। শত বছরের অভিজ্ঞতায় নুয়ে পড়তে পারে। বিয়ে ঠিকই হলো, কিন্তু প্রতিক্ষণ প্রতিপলে ইমু ছাড়া আমার মনেপ্রাণে আর কেউই ছিল না, নেই। হৃদয় তো ওকে কবেই দিয়েছি। নিঃসাড় শরীরটা শুধু পড়ে থাকতো বিছানায়।’
‘স্বামীকে ঠকানো হলো না, সই?’
‘তা হয়ত হলো, কিন্তু আমি নিজেই তো কম ঠকি নি। আর এমন চাই না। আমি ওকে চাই সই। কবীরকে বলেছি আলাপ করতে।’
‘হা…। তলে তলে এই কথা ! ঠিক আছে দেখা যাক তোর কবীর তরবারীর ধার কতো। আমারও সাথে নিস।’

কবীর প্রস্তাব নিয়ে আসার পর আরও চুপ হয়ে গিয়েছে ইমরান। সময়ে অসময়ে নদীর পাড়ের বটের শিকড়ে বসে ঘাটে মানুষের আসা যাওয়া দেখেছে। নাইতে আসা রমণীদের জলভরা কাঁখের কলসে ছলাৎছল করে উঠেছে বুকের নদী। একটি পায়ের শব্দ শুনবার জন্যে, একটুকু ক্ষীণতনু ললনার ছায়া এই বালুপথে দেখবার জন্য দৃষ্টি আকুল হয়েছে। কাউকে কিছু বলতে পারে নি। এই বর্ষার মৌসুমে, এই আষাঢ়ে উদ্ভিন্ন যৌবনা নদীরা শতবাঁকে বয়ে যেতে চায়। শুধু দিনে দিনে শুকিয়ে উঠেছে ইমরানের হৃদয়ের জলধারা। কখন থেকে বসে আছে মনে নেই। প্রায়-চেনা মৃদু পায়ের শব্দে ফিরে তাকায়। কবীর ম্লান মৌনমুখে পাশে এসে বসে। পিঠে হাত রাখে। শিশুর মতো কেঁদে ওঠে ইমরান।
‘আইজ সইন্দেবেলায় দেখা করতি কইয়েচে সরু বু।’
‘কোথায়?’
‘তা কই নি।’

বাদলের এই দিনগুলোতে আকাশ আর মেঘে সখ্য খুব। নানা বর্ণে সেজে থাকে মেঘ আকাশময়। সক্কালবেলা একটু সূর্য উঠে কোথায় যে লুকোয়! থরে থরে নীলমেঘ এসে হেসে থাকে। দুপুর হতে না হতেই ভ্রমর কালো হয়ে যায় চরাচর। ঝম ঝম নামে বহুক্ষণ। খালি গায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় ইমরান। উঠোন, পাশের মাটির পথে তখন লালচে স্রোত। চারদিক থেকে যেন নদীরা সৈন্য পাঠিয়ে ঘিরেছে ওকে। ভেসে যাওয়া ছাড়া পথ নেই।

এখন বিকেল কি সন্ধ্যা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। মা রাতের রান্না চড়িয়েছে বোধ হয়। রান্নাঘর থেকে অগ্নিগিরির মতো ঘন ধোঁয়া কু-লী পাকিয়ে অতি কষ্টে উঠে যাচ্ছে উপরে। খালি পায়ে নেমে এলো। গেট পেরিয়ে রাস্তার পানি-কাদায় পা ডুবিয়ে পুকুর পাড়ে এলো। আকাশ ভেঙে নামলো আবার। বৃষ্টির ধোঁয়ায় চারদিক প্রায়ান্ধকার। শত সহ¯্র ঝুমঝুমি যেন বেজে চলেছে। এই সবুজাভ জল, বৃক্ষলতা, বাঁশবন— সবই অঝোর হয়ে ঝরছে এক অনাহুত কান্নার মতো। কোণার কদমগাছটার দিকে এগোল। গাছের গা বেয়ে দড়ির মতো দরদর করে জল ঝরছে। হাওয়ার তোড়ে দু’একটি কদমফুল পাতাসহ উড়ে এসে পড়ছে পায়ের কাছে। আবছা অন্ধকারে গুঁড়িটা বেশ বড় দেখাচ্ছে। ঘাসে পা পিছলে গেল একবার। পড়ো পড়ো হয়ে সামলে দাঁড়ালো। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে বাঁহাতে কদমগাছটা ধরে সোজা হলো। মুখ তুলে নিঃসাড় হয়ে গেলো ইমরান। অল্প খোলামুখে বৃষ্টির ছাট জমছে। লম্বা চুল ভুরু আর চোখ আড়াল করে টুপটুপ করে কাঁদছে নাকের কাছে এসে।
‘পড়তে পড়তে সামলে নিয়েছ? ভাবলাম পুকুরেই পড়ে যাবে। হিহি।’

কদম-স্নাত জলের ঘ্রাণে অবশ হয়ে তাকিয়ে আছে। কথা সরছে না। সরুর জলেভেজা ঠোঁটদুটোর দিকে নির্বাক তাকিয়ে আছে। চোখে হাজার নদীর বাঁক। গুচ্ছ গুচ্ছ কালো কেশনদীর স্রোত ওড়না পেরিয়ে উত্থিত বুকের ওপরে এসে ভেঙেছে। সরু আর কোনও কথা বলছে না। নিচের ঠোঁট কষ্টে কামড়ে রেখে পরিপূর্ণ চোখে তাকিয়ে আছে। দাঁতের পেষণ থেকে কেঁপে কেঁপে ঠোঁটটা বেরিয়ে এলো। সেই রক্তাভ ঠোঁটে ভোরের সূর্যের আভা। এই একান্ত আলো আর কেউ যেন না পায়, সেই চেষ্টায় দু’হাতের তালু আলতো করে রেখে দিলো সরুর দু’চিবুকে।

সংগৃহিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ