• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন |

‘শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তিতে কালি’

আনন্দ বাজারসিসি নিউজ: বিশিষ্ট এক সাংবাদিক-সম্পাদককে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মীয়’ এক মন্ত্রীর কারণে শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তিতে ‘কালি পড়ল’। এমন দাবি করেছে ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেখা হয়, একটি অনলাইন সংবাদপত্রের সম্পাদক প্রবীর সিকদারকে রবিবার রাতে ঢাকায় তার অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে পুলিশ জানায়, ফেসবুকে তার লেখা একটি পোস্টের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরিদপুরের সাংসদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফের মানহানির অভিযোগ উঠেছে সিকদারের ফেসবুক পোস্টটিতে। মঙ্গলবার আদালত তাকে তিন দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠায়।

আনন্দবাজার আরও উল্লেখ করে, সিকদারের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে মৌলবাদবিরোধী মহল প্রতিবাদে সরব হয়। দেশের সব বড় শহরে গণজাগরণ মঞ্চ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শাসক আওয়ামি লিগের নেতাদের একাংশও সিকদারের গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন। অবশেযে চাপের মুখে পুলিশ বুধবার এই সাংবাদিককে আদালতে তোলে। সরকারি কৌঁসুলি তার জামিনের বিরোধিতা না-করায় সিকদার মুক্তি পান।

এতে আরও লেখা হয়, ফরিদপুরের প্রবীর সিকদার বাংলাদেশে পরিচিত মুখ। ১৯৭১-এ তার পরিবারের ১৪ জনকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের সেনারা। ২০০১ সালে ফরিদপুরের মুসা বিন সমশেরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখায় তাকে খুনের চেষ্টা করা হয়। বোমায় একটি পা হারান সিকদার। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোয় তিনি প্রাণে বাঁচেন। মৌলবাদের বিরুদ্ধে বরাবর সরব প্রবীণ সেই সাংবাদিককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে নিয়ে যাচ্ছে— এই ছবি প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্কে শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ সম্প্রতি সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি জোর করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কাজের বিরুদ্ধে কলম ধরায় স্থানীয় বেশ কিছু সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় হেনস্থা, এমনকী মারধরও খেতে হয়েছে। মোশারফের বিরুদ্ধে এমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন সিকদার। অভিযোগ, ফরিদপুরের প্রাণকেন্দ্রে অরুণ গুহ মজুমদারকে সপরিবার উচ্ছেদ করে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির দখল নিয়েছে এই মন্ত্রীর দলবল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ