• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন |

টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; তিস্তা বিপদসীমায়

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সিসি ডেস্ক: গত দুইদিন ধরে টানাবর্ষণ ও উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের নীলফামারী সহ আট জেলার সকল নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদ নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বর্ষণের কারণে এ সব জেলার বিস্তির্ণ নিমাঞ্চল এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ।মাঠ ঘাট ও আবাদী জমি গুলো তলিয়ে গেছে পানির নিচে। অবিরাম বর্ষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে কাঁচা সড়ক গুলো ধ্বসে পড়ছে। এমন কি শুক্রবার ভোরে রেলপথের ধারে থাকা একটি শিমুল গাছ বৃষ্টির কারনে উপরে পড়েছে । এতে গাছের সাথে ধাক্কায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন নীলফামারীতে লাইচ্যুত হয়ে পড়ে।

গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়া পয়েন্টে ১৪২ মিলিমিটার ও নীলফামারী শহরে ১১৭দশমিক ৫ মিলিমিটার ও অন্যান্য জেলাগুলোতে গড়ে একশত মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে গত দুই দিন ধরে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার) ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে বলে পানি উন্নয়ন বোডের ডালিয়া বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে।

বুধবার রাত থেকেই উত্তরবঙ্গের বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। কখনও ইঁলশেগুড়ি কখনও বা তুমুল বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টির কারনে মাটি নরম হয়ে গ্রামের বিভিন্ন কাঁচা রাস্তাগুলো ধ্বসে পড়ছে। বৃষ্টির কারনে নীলফামারীর রেলপথের চেতাশাহ লেবেল ক্রসিং স্থানে মাটি ধ্বসে একটি শিমুল গাছ উপড়ে পড়ায় রাজশাহীগামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ৯ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বিরামহীন বৃষ্টির কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। এতে করে কাজে যেতে না পেরে স্বল্প আয়ের দিনমজুর পরিবারগুলোর ভোগান্তি বেড়েছে। ফাঁকা হয়ে পড়েছে শহরের রাস্তাঘাট। অবিরাম বর্ষনের কারণে শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ফসলি ক্ষেত গুলো ডুবে গেছে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসিন রেজা জানান বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৭ দশমিক পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ বছরের একদিনের সর্বচ্চ বৃষ্টিপাত।

পানি উন্নয়ন বোডের ডালিয়া বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্রের গ্রেড রিডার নুরুল ইসলাম বলেন গত দুই দিনের অবিরাম বর্ষন চলছে তিস্তা অববাহিকায়। কখনও ভারী মাঝারী ও গুড়ি গুড়ি। গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘন্টায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকড করা হলেও শুক্রবার তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকড করা হয় ১৪২ মিলিমিটার। যা এ বছরের তিস্তা অববাহিকার একদিনের সর্বচ্চ বৃষ্টিপাত রেকড করা হয়। তিনি আরো জানান বর্ষনের কারনে স্থানীয় নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গত দুইদিন থেকে। তবে শুক্রবার বেলা তিনটায় তিস্তার পানি কমে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুত্র মতে বক্ষ্মপুত্র সহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ