হাবিবুর রহমান, চিলমারী : স্বামী মারা গেলেও বিধবার খাতায় নাম উঠেনি বৃদ্ধা প্রমোদা চক্রবর্ত্তীর। এখনো যেন বিধবা হয়নি এটাই ধারনা তাদের। বয়সের ভাড়ে ন্যুয়ে পড়লেও তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতা। অনাহারে অর্ধাহারে কেটে যাচ্ছে তার দিন।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা মৌজার রণপাগলীর তল মন্দির সংলগ্নস্থানে বাস করছেন। উপজেলার তালাইকাটা গ্রামে ছিল বাবার বাড়ী। কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে বিয়ে হয় স্বামী পরিতোষ চক্রবর্ত্তীর সাথে। তিন মেয়ে রেখে ১৯৬৮ সালে পরিতোষ চক্রবর্ত্তী মৃত্যুবরণ করেন। তিন মেয়েসহ ফিরে আসেন তালাইকাটায় বাবার বাড়ীতে। বড় ভাই ধীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক। নিজের ছেলে মেয়েদের পাশাপাশি লালন পালন করেন বোনের মেয়েদের। বিয়েও দেন তিনি। বড় ভাইয়ের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যায় প্রমোদা চক্রবর্তীর। ব্রহ্মপুত্র নদের কড়াল গ্রাসে বসতভিটা বিলীন হওয়ার পর চলে আসেন রণপাগলীর তল এলাকায়। ইতোমধ্যে বড় ভাই ধীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করে এবং পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ভাতিজাদের সংসারে কোন রকমে খেয়ে না দিন চলে যাচ্ছে তার। আজও কেউ তার খবর রাখেনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার ভাগ্যে জোটেনি কোন সাহায্য। বিধবা ভাতা তো দূরের কথা। বয়স্ক ভাতার তালিকাতে ওঠেনি তার নাম। ভাতার কার্ড নিতে গেলে স্বামীর মৃত্যুর সাটিফিকেট সাথে কত বায়না সে বায়না কখনো যেন ফুরায় না। কথা হয় প্রমোদা চক্রবর্ত্তীর সাথে। কথায় কথায় তিনি জানালেন অনেক কথা। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে নিরামিশ খান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ভাই ধীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী, একে একে ২ মেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কম বয়সে বিধবা হয়ে বাবার বাড়ীতে ফিরে এসে ভাইয়ের সংসারে থাকেন তিনি। বড় ভাই ভাবী নিজেরা কষ্ট করলেও অভাব বুঝতে দেননি প্রমোদা চক্রবর্ত্তীকে। আজ ভাই নাই, কিন্তু ভাবী-ভাতিজারা ছাড়া তার আর কেউ নেই। ভাতিজারাও এতোটুকু কষ্ট না দিলেও সরকারের দৃষ্টি গোছরে আসেননি তিনি। বিধবা প্রমোদা চক্রবর্ত্তী আজ বৃদ্ধা। বয়সের ভাড়ে ন্যুয়ে পড়ছেন তিনি। সমাজসেবা কিংবা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নজরে আসেননি প্রমোদা চক্রবর্ত্তী। এমনকি বিধবার খাতায় নামও উঠেনি তার। তাই তিনি কথায় কথায় বলে ফেলেন বাবারে ওমরা মনে করে মুই বিধবার সাথে সাথে বুড়িও হংনাই।