হাবিবুর রহমান, চিলমারী: পানি কমতে শুরু করলেও আবারো টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের পানি নেমে না যাওয়ায় প্রায় দেড় মাস ধরে পানি বন্দী থাকায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে বানভাসী মানুষজনের। রানীগঞ্জের পুর্বভাটিপাড়া, সরকটারী, ময়নারখামার, মজারটারী, মাঝিপাড়া, থানাহাটের ঠগেরহাট, ছোটকুষ্টারী কেচিরাস্তা, রমনার পাত্রখাতা, জেলে পাড়া, মাঝিপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন দুর্গত এলাকায় হাজার হাজার পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রানের জন্য চলছে হা-হা কার। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ বানভাসী মানুষের মাঝে জোটেনি একমুটো ত্রানের চাল। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। বানভাসী মানুষ গুলোর হাতে প্রায় ২ মাস থেকে কাজ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে অনেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘরে খাবার না থাকায় বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি ও নিম্নআয়ের মানুষজন। সরকারী পর্যায়ে সীমিত ত্রান তৎপরতা শুরু হলেও বিপুল সংখ্যক বানভাসীর ভাগ্যে জুটছে না তা। এদিকে সরকারীভাবে ত্রান বিতরন শুরু হলেও বে-সরকারী কোন সংস্থা বা এনজিওদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বানবাসী মানুষের মাঝে কোন সাহায্য পৌঁছানী বলে জানান বানভাসী মানুষ। থাতা কলম দেখে হাতে দেখে কুড়িগ্রামের চিলমারী রানীগঞ্জ মহন মহোন এলাকায় গতকাল সরেজমিনে গেছে বৃদ্ধা মেরেজা (৬২) বলতে থাকেন ক্যাডা বাহে তোমরা। প্রশ্ন ছুরেই বলতে শুরু করেন। বাহে মোর নামটা একনা নেকেন। দেড়মাস থাকি পানিত বন্ধি আছোং এখনো কিছু পাংনাই বাহে। নেকো বাহে নেকো। শুধু মেরেজা নয় এসময় বেশ কিছু মহিলা পুরুষ ভির করতে শুরু করে। এবং নাম লেখতে বলে। এসময় সকলের চোখে মুখে ছিল দুশচিন্তার ছাপ। তবে সাংবাদিক জানতে পেরে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে এরমা তো খালি নাম নেকি নিয়ে যায় কিছু তো আর দেয়না। ছবি তুলতে দেখে গ্রামের কফিল উদ্দিন (৭০) এগিয়ে এসে বলেন, তোমরা তো খালি ফটক তুলি নিয়ে যান আর তো কিছু করেন না। হামরা যে বাড়ি ছাড়া হয়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কষ্টে আছি তা তো লেখেন না। এরকম শুধু মেরেজা, মতিউর, ছক্কু, মহিলা, রাবেয়াই নয় শতশত মানুষ খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিনাপাত করছেন।
রানীগঞ্জ মদন মহোন সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রান বন্ধু পানিবন্দি মানুষের দূর্ভোগের কথা শিকার করে বলেন এই গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবার প্রায় ২০/২৫ দিন থেকে স্কুলের ঘরে ও বারান্দায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম বানভাসী মানুষের দূর্ভোগের কথা শিকার করে বলেন আমার এলাকায় ৩ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি আর ২৫০ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ত্রানের ২ মে.টন চাল পেয়েছিলাম তা ২শত মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুদ্দৌল্লা জানান, এপর্যন্ত বানভাসী মানুষের মাঝে ১৫ মে. টন চাল ও শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন আমরা আবারো বরাদ্দ পেয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে সরকারের দেয়া বরাদ্দকৃত ত্রানের চাল পৌঁছানো হবে। তবে চিলমারী এলএসডি অফিস সূত্রে জানা গেছে সমবার পর্যন্ত ১২ মে.টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে।