• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন |

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

জন্মাষ্টমীসিসি নিউজ: মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি আজ। শুভ জন্মাষ্টমী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। শাস্ত্রীয় বিবরণ, জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে ও  লোকবিশ্বাস অনুযায়ী ৩২২৮ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংশের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। তিনি বাসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবকীর দাদা কংস, তাদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে কংস জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তার মৃত্যু হবে। কংস এই দৈববাণী শুনে দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং  পর্যায়ক্রমে তাদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তার সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে প্রমাদ গুনেন বসুদেব ও দেবকী। জন্মরাত্রেই দৈব সহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাকে গোকুলে তার পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মনুষ্য সমাজে যখন হানাহানি, রক্তপাত, সংঘর্ষ, রাজ্য লোভে রাজন্যবর্গের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ পরিস্থিতি বর্তমান, ঠিক সেই সৃষ্টি স্থিতি-প্রলয়ের যুগ সন্ধিক্ষণে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব অনিবার্য হয়ে পড়ে। ঘোর অমানিশার অন্ধকারে জন্মগ্রহণ করায় কৃষ্ণের গায়ের রং শ্যামল, অন্য অর্থে ধূসর, পীত, কিংবা কালো। শ্রী কৃষ্ণের জীবনী পাঠ ও কর্মকাণ্ড মানব সমাজকে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে বিশ্ব সমাজকে আবদ্ধ করার শিক্ষা দেয়। চলার পথের পাথেয় হিসেবে তার দর্শন ও প্রেমের বাণী মানবসমাজে চলার পথে পালন করে অনন্য ভূমিকা। শুধু দুষ্টের দমনই নয়, এক শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে  শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা জন্মাষ্টমী নিয়ে আসে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক শুভ আনন্দময় বার্তা। শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য। মানুষে মানুষে বিভেদ ও বৈষম্য অবসানে শ্রী কৃষ্ণের আদর্শ অনুকরণীয়। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।  অন্ধকার সরিয়ে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলেন পৃথিবীকে। নানা লীলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রকাশিত করেন, একদিকে দুষ্টের দমনে তার কঠোর রূপ, অন্যদিকে প্রেমের মূর্ত প্রকাশ গোটা মানবজাতিকে শান্তি ও সত্যের পথ দেখায়। জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব। এক সময় ঢাকাবাসী এ উৎসব পালন করলেও এখন তা সর্বত্র আনন্দ, উৎসব ও আড়ম্বরভাবে পালন করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এ দিনে উপাবাসে সপ্ত জন্মকৃত পাপ বিনষ্ট হয়। আর তাই এ দিনটিতে তারা উপবাস করে লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পূজার্চ্চনা, আরাধানা, জন্মাষ্টমীর মিছিল, শোভাযাত্রা ইত্যাদি।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন পালিত হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে দুদিনের কর্মসূচি পালন করবে।  এ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক নারায়ন সাহা মনিসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, আজ সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী গীতাযজ্ঞ, বিকালে ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের শোভাযাত্রা আরও নতুন আঙ্গিকে এবং সমৃদ্ধ দৃশ্যপটে আয়োজিত হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিকালে বিশাল শোভাযাত্রা ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকেশ্বরী-পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, শহীদ নূর হোসেন স্কোয়ার, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায় সাহেব বাজার পেরিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। ১১ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মতবিনিময় সভায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ দশকের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের পাশাপাশি, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন বন্ধ, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, যথাযথ জাতীয় মর্যাদায় জন্মাষ্টমী পালন, এ উপলক্ষে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধান প্রধান সরকারি ভবন আলোকসজ্জিতকরণ, প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা ও শুভেচ্ছা বাণী সজ্জিতকরণসহ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কারাগার, হাসপাতাল, অনাথ আশ্রম-এতিমখানায় সবার জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ