দিনাজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো. খালেকুজ্জামান পিএসসি বলেছেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশুসহ বিভিন্ন পন্য পাচার হওয়ায় সরকার একদিকে যেমন মোটা অংকের রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে, অপরদিকে এ ধরনের অবৈধ সীমান্ত লঙ্ঘনজনিত কারনে সীমান্ত দূর্ঘটনা বৃদ্ধিসহ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি রাত-দিন উপেক্ষা করে নিছিদ্র পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলার বিরল উপজেলায় ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভান্ডারা বিওপির আওতাধীন বহবল দিঘি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো. খালেকুজ্জামান পিএসসি এসব কথা বলেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সীমান্তে চোরাকারবারী কর্তৃক বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভারত হতে গরু আনার তৎপরতা প্রতিরোধ, বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক দ্বারা বাংলদেশী নাগরিক হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা এবং মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য সকল চোরাচালান রোধে বিজিবি গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সেক্টর কমান্ডার বলেন, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারনের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে সীমান্ত অপরাধসমূহ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনসাধারনের নিকট সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে চোরাকারবারীরা সীমান্ত এলাকর বিভিন্ন পথ দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে গরু চোরাচালনির জন্য সচেষ্ট হয়ে থাকে। তিনি বলেন, দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত বিরল উপজেলাধীন ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিওপিতে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যরা তাদের সার্বক্ষনিক নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সীমান্ত রক্ষা, সীমান্তে বসবাসরত জনসাধানের জানমাল রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধ কার্য পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যে সকল অপরাধ/দূর্ঘটনাসমূহ সাধারণত সংঘটিত হয়ে থাকে যেমন, অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম, কাটা তারের বেড়া কেটে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ফেন্সিডিল চোরাচালান, বাংলাদেশী জনসাধারন কর্তৃক ভারতীয় ভুমিতে গবাদিপশু চড়ানো, গরু চোরাচালান, বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হতাহত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সেক্টর সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর এএসএম রবিউল হাসান, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম সোনা, বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত। অনুষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।