কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে হাত-পা বেঁধে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া অটোরিকশা চালক শামীম (২০) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে রাত ৯টার দিকে ঘটনার পর শামীমকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় শামীমকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রওয়ানা দেয় তার স্বজনরা। পথিমধ্যে জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় তিনি মারা যান।
নিহত শামীম সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের আমাটি শিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার একমাত্র ছেলে। তার বাবা অপ্রকৃতস্থ বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের কয়েকজন বখাটে যুবক শামীমদের বাড়ির নিকটবর্তী নিন্দু মিয়ার ফিসারিতে বসে নিয়মিত নেশাগ্রহণসহ অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল। শামীম তাদেরকে নিষেধ করায় এনিয়ে প্রায়ই বখাটে যুবকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হত। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার তাদের সঙ্গে শামীমের হাতাহাতি হয় বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইজিবাইক চালিয়ে বাড়ি ফেরার পর শফিক, জনি, আল আমিন ও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বখাটে যুবক শামীমকে নিন্দু মিয়ার ফিসারিতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চারজন মিলে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এসময় শামীমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের আগেই প্রায় সমস্ত শরীর পুড়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।