সিসি নিউজ: ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগরীকে সিসিটিভি এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতির আওতায় আনছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় বাতি স্থাপনের সম্ভাব্য ব্যয়, সর্বোত্তম অর্থায়নের উৎস প্রভৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি সভা হয়েছে। চীনের প্রস্তাব পর্যালোচনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগরীকে সিসিটিভি নেটওয়ার্কে আনার বিষয়ে একমত হন।
‘প্রকল্পে কত ব্যয় হবে, কতগুলি স্থানে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতি স্থাপন করা হবে তা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, পুরো ঢাকা শহরে সিসিটিভি স্থাপনে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ও সময় পরে নির্ধারণ করা হবে। এর আগে হবে সম্ভাব্যতা যাচাই। এতে বোঝা যাবে এ মহানগরীতে কতগুলি সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতি লাগবে।’
সভায় উপস্থিত অপর এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। চীনের সিইআইসি কোম্পানির মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য অর্থ বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত রাজস্ব বাজেট থেকে নির্বাহ করা যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রকল্প দলিল প্রণয়ন ও ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য চীনের সিইআইসি কোম্পানি একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেশ করেছে। তাদের প্রস্তাব সার্বিক আলোচনার জন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চীনের সিইআইসি কোম্পানি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেবে।
পরে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কারিগরি বিষয়ে আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ঢাকা মহানগরীতে অনেক মানুষের বসতি। এ শহরে অপরাধমূলক কাযর্কলাপ প্রতিরোধ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সিসিটিভি অত্যন্ত জরুরি। যেমন, আমি এখন অফিসে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজে কর্মরত। কিন্তু ঢাকা শহরে এখন কি হচ্ছে আমি শনাক্ত করতে পারছি না। কিন্তু সিসিটিভির আওতায় এলে নগরীর সব চিত্র ঘরে বসে দেখা যাবে। এতে অপরাধ কমবে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণও হবে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। একসঙ্গে ঢাকা শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনবো।
চীনা কোম্পানির প্রস্তাব বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, ঢাকা শহরে অনেক আগেই সিসিটিভি স্থাপন করার দরকার ছিলো। সে জন্য এ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারের নিজস্ব অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে ইআরডি বৈদেশিক অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, অনুদান না পাওয়া গেলে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশন সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের পক্ষে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টিলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম (আইটিএস) প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে। স্থানগুলো হলো- গুলশান-১, মহাখালী (রেলক্রসিংয়ের ইন্টারসেকশন), পল্টন ও গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া) ইন্টারসেকশন। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় আইটিএস ডিভাইস, ট্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেমের উন্নয়ন, স্টিল পুল, সিসিটিভিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হবে।