• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন |

“জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না”

119সিসি নিউজ: সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিএনপি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন এরা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করেছিল। জঙ্গী সংগঠন তৈরী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ২১ বার হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কেও যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা সফল হয়নি।

বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে একথাগুলো বলেন তিনি।

নুর আরো বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনীদের রক্ষার জন্য সংসদে ইনডেমিনিটি বিল পাস করেছেন। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযমকে বিদেশ থেকে দেশের মাটিতে এনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,তাদের জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনও এটি করতে পারেন না।

আসাদুজ্জামান নূর আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী আমাদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। ধর্মের নামে তারা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি-জামায়াত এখন দেশ ধ্বংসের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। আর জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছেন। তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিত ও উদ্দ্যেশোণোদিতভাবে স্বপরিবারের হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে অবস্থান করায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত কে ইঙ্গিত করে বলেন একটি জোট বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ২১ বার হত্যার অপচেষ্টা করেছিল। শুধু তাই নয় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কেও যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। তিনি বলেন, একটি সংগঠনের শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আর আমাদের রাজনীতি করতে হবে বুঝেশুনে।

আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও মানুষের জন্য লড়াই করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবিদার আমাদেরও ওই লড়াইয়ে সামিল হতে হবে। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি সৈনিকরা হবে সৎ, নিষ্ঠা ও চরিত্রবান। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে রেলওয়ে পুলিশ ক্লাব চত্বরে দুই পর্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাওয়াদুল হক সরকার।এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাফিয়ার রহমান সাফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিবহন শ্রমিকনেতা আখতার হোসেন বাদল, পৌর আওয়ামী লীগের নেতা অধ্যাপক সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা মোখছেদুল মোমিন প্রমূখ।

এর আগে সম্মেলনের শুরুতেই প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি যথাক্রমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন উঁড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক।

সম্মেলনের আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিগত দিনে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বাবু। পরে মৃত্যুবরণকারী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এর পর সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। পুরো সম্মেলন অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়দুল রহমান শাহীন। সম্মেলনে পায় এক হাজার তিন শত ডেলিগেট ছিল।পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্যের নতুন কমিটির গঠনের জন্য কাউন্সিলদের সরাসরি ভোটগ্রহন করা হয়। ভোটে সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।ভোটে সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোজাম্মেল হক নির্বাচিত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ