• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুরে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষনা দিয়েছেন চেয়ারম্যান

Parbatipur(Dinajpur)Photo_11-09-2015রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১৫ বছর ধরে বিধবা ভাতা ভোগী এক বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে ওই বিধবা ভাতা কার্ড অর্থের বিনিময়ে অপর এক মহিলার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ‘মিসটেক’ এবং ইউপি সদস্য এ জন্য উপজেলা সমাজ সেবা অফিস দায়ী বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে চাঞ্চল্যকর  ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, স্বামী হক্কুল হোসেনের মৃত্যুর পর ১৯৯৯ সালে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের সহায়তায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় মাসিক বিধবা ভাতা কার্ড (বহি নং ১৬৮,ব্যাংক হিসাব নং ৪১/৩৪০২৩২৮১)পান পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাকল গ্রামের বিধবা মহুবা খাতুন (৬৬) । একমাত্র দিন মজুর ছেলের সংসারে প্রায় অনাহারে অর্ধাহারে তার দিন কাটতো। প্রতি মাসের ৪শ টাকার ভাতা পেয়ে তার কষ্টের জীবনে অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসে। ভাতার টাকায় কোন রকমে তার সারা বছরের শাড়ী-কাপড় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হতো। কিন্তু গত রমজানের ঈদের পূর্বে ৩ মাসের বকেয়া (এপ্রিল-জুন) ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পার্বতীপুরের সোনালী ব্যাংক শহীদ মাহবুব সেনানিবাস শাখায় যান বিধবা মহুবা বেগম। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোকাদ্দেস হোসেন তাকে জানান, উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আপনার নামে দেয়া মৃত সনদ (১০মে,২০১৫) ও সুপারিশ পাওয়ার পর আপনার কার্ড বাতিল করে জনৈক রাশেদা বেগমকে দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে হতভম্ব বিধবা মহুবা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মহুবা খাতুনের জামাতা সহিদুল ইসলাম বলেন, তার শাশুড়ীকে মৃত দেখিয়ে তার কার্ডটি  বাতিল করে অন্যের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে গোটা ইউনিয়নে হৈচৈ পড়ে যায়। ঘটনার পরপরই মহুবা খাতুনের আত্মীয় স্বজনরা পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও ভাতা বিতরনকারী সোনালী ব্যাংক শাখায় খোঁজ নেন। সেখানে তারা জানতে পারেন ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারী পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলামের দেয়া প্রত্যয়ন পত্রে বিধবা ভাতা ভোগী মহুবা খাতুন ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট মারা গেছেন বলে দেখানো হয়েছে। একই পত্রে ধোপাকল বালাপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগমকে ওই বিধবা ভাতা কার্ডটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাঠ সমন্বয়ক (ফিল্ড সুপার ভাইজার) জহুরুল হক ও পলাশবাড়ী ইউনিয়ন সমাজ কর্মী সামসুন্নাহার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যনের দেয়া মৃত সনদ ও সুপারিশের ভিত্তিতে মহুবা খাতুনের কার্ড বাতিল করে ওই কার্ডটি একই গ্রামের গাছুয়া পাড়ার বিধবা রাশেদা বেগমের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সে তিন মাসের ভাতাও উত্তোলন করেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামান এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, সমাজ সেবা বিভাগ ইচ্ছা করলেও কাউকে ভাতা বরাদ্দ দিতে পারেন না। ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া তালিকা ও উপজেলা ভাতা প্রদান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভাতা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত মেম্বার হাবিবুর রহমান টাকার বিনিময়ে কার্ড পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করে বলেন, সমাজ সেবা বিভাগ ভাতার তালিকা সমন্বয় করতে গিয়ে এ ভূল করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলাম ফারুক বলেন, কে কার্ড পেলো না  পেলো এ নিয়ে আমার কোন স্বার্থ নেই। এটা একটা মিসটেক, তিনি মৃত্যু সনদ পত্র দেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ