• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন |

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন- এমপি গোপাল

Human Rights Conf. Picদিনাজপুর প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, মানবাধিকার একটি উচ্চমানের বিষয়। মানবাধিকারের বিকাশ ঘটাতে হলে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, এক সংখ্যালঘু মা তার মেয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আকুতি জানিয়ে ধর্ষকদের বলেছিলেন তোমরা তো আমার মেয়েকে ধর্ষণ করতেই এসেছ, সেটা কর কিন্তু আমার মেয়ের জীবন তোমরা নষ্ট করো না। তোমরা এমনভাবে ধর্ষণ করো যেন আমার মেয়ের প্রাণ রক্ষা পায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দিনাজপুর জেলা শাখা আয়োজিত ‘আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয় তখন সংখ্যালঘুদের অবস্থান কোথায় থাকে? তবে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ হোক আর যে কোন দলের লোকই হোক মানবাধিকার লংঘন হলে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে সব সময় থাকেন। এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন। তিনি মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের কখনও প্রশ্রয় দেননি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু’র সভাপতিত্বে আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা মাজিষ্ট্রেট মোঃ গোলাম রাব্বী। সদর উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিরন্ময় দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকারের যে, ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান তার অনেক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সবসময় মানবাধিকার রক্ষার জন্য চুক্তিবব্ধ। কিন্তু ব্যক্তিগত অপকর্মের মাধ্যমে আমরা অনেক সময়ই মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটিয়েই চলেছি। মঞ্চে মানবাধিকারের কথা বললাম, আর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী বা কাজের মেয়েকে নির্যাতন করলাম এটা কোন মানবাধিকার কর্মীর কর্ম হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার রুহুল আমিন বলেন, রাষ্ট্র যদি নিপীড়ক হয় তাহলে জনগণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একসময় ইরাক সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ছিল। সিরিয়া মুসলিম ঐতিহ্যের ধারক ছিল কিন্তু মানবাধিকার না থাকায় সেই সব রাষ্ট্র আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একাত্তরের পূর্বে পাকিস্তানের যে অবস্থা ছিল এখন তার চেয়েও খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে রয়েছে। আমরা অনেক ভাল অবস্থানে রয়েছি। এটাকে আরো ভাল করা সম্ভব যদি আমরা সবাই মিলে সচেতনতার পরিচয় দেই এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করি।
বিশেষ অতিথি গোলাম রাব্বী বলেন, মানুষকে যদি সুশিক্ষিত করা যায় তাহলে মানবাধিকারের বিষয়গুলো আপনা আপনি অর্জন হয়েই যাবে। তাই মানুষকে সুশিক্ষিত করার লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দিনাজপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. ছফর আলী, সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে দিনাজপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খালেকুজ্জামান রাজু, ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন ফেরদৌস প্রমুখ।
আলেচানা শেষে মানবাধিকার কর্মীদের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দিনাজপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ লুৎফুল কবির বকুল। বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার, বগুড়া জেলা শাখার বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ নূরুন নবী বুলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দের জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পতাকা, মানবাধিকার পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বিশেষ অতিথি এডিএম গোলাম রাব্বী, পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, সম্মেলনের উদ্বোধক ড. মো. সাইফুল ইসলাম দিলদার, জেলা কমিটির সভাপতি সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খালেকুজ্জামান রাজু প্রমুখ। আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ