সিসি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের মতো ‘লাভজনক’ পদে থাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক কল্যাণ পার্টির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুবিনুল হক।
সংবিধানের ৬৬ (২), ৬৬ (৪) এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে এরশাদের সদস্য পদ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে ওই নোটিসে।
সোমবার পাঠানো ওই নোটিসে মুবিনুল হক বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদটি লাভজনক। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে লাভজনক পদে থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সংসদ সদস্য পদে থাকবার যোগ্যতা হারিয়েছেন।”
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ১২-এ লাভজনক পদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় ‘ফুলটাইম সার্ভিস’ পদধারীরা লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলে গণ্য হবে।”
এ বিষয়ে মুবিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ (৩) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ছাড়া অন্য সব পদ লাভজনক বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে জাপা চেয়ারম্যান ‘সুষ্পষ্টভাবে সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন’ করেছেন। নির্বাচন কমিশন আমার লিগ্যাল নোটিস আমলে না নিলে আদালতের শরণাপন্ন হব। বিরোধী দল এখন মন্ত্রীসভায়ও রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থেই এ আইনি প্রতিকার চাইছি আমি।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. শাহজাহান বলেন, “এ বিষয়ে কমিশনের কিছুই করার নেই। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদটি লাভজনক কি না তা আদালতে নির্ধারিত হতে হবে। লাভজনক পদের সংজ্ঞাও আইনে নির্ধারিত রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে অনেক নাটকীয়কতার মধ্যে সিএমএইচে থাকা অবস্থায় রংপুর-১ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এরপর তিনি সাংসদ হিসেবে শপথ নেন এবং মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান।